
সরিষাবাড়ীতে টিসিবি ডিলার পয়েন্টে দ্বৈত মালিকানা দাবি, নীতিমালা মানা নিয়ে প্রশ্ন সচেতন মহলে
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি :
ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পরিচালিত একটি ডিলার পয়েন্টকে কেন্দ্র করে চরম বিভ্রান্তি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একই ডিলার পয়েন্টে দুই ব্যক্তি নিজেদের মালিকানা দাবি করায় টিসিবির পণ্য বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সরকারি নীতিমালা মানা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের একটি টিসিবি ডিলার পয়েন্টে মেসার্স কাজল এন্টারপ্রাইজ–এর প্রোপাইটর ফজলুর রহমান নিজেকে বৈধ ডিলার হিসেবে দাবি করছেন। অপরদিকে অন্য পয়েন্টের ডিলার হিসেবে মেসার্স সাদিয়াতুন ট্রেডার্স–এর মালিক খায়রুল ইসলাম পরানও একই মালিকানা দাবি করেছেন।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের টিসিবি বিক্রির স্থলে ডিলার প্রতিনিধিরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
ফলে একটি ডিলার পয়েন্টে দুই মালিকের দাবিতে সাধারণ টিসিবি কার্ডধারী উপকারভোগীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ।
সচেতন মহলের অভিযোগ, টিসিবি পণ্য বিতরণ নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত ডিলার, নির্দিষ্ট পয়েন্ট এবং উপজেলা প্রশাসনের মনোনীত তদারকি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পণ্য বিতরণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় কোনো ধরনের তদারকি ছাড়াই পণ্য বিতরণ করা হচ্ছে, যা সরাসরি নীতিমালা লঙ্ঘনের শামিল।
এ বিষয়ে মেসার্স কাজল এন্টারপ্রাইজ–এর প্রোপাইটর ফজলুর রহমান জানান, তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত বৈধ ডিলার এবং নিয়ম মেনেই টিসিবি পণ্য বিতরণ করছেন।
অন্যদিকে বাউসী বাজার এলাকার টিসিবি ডিলার মেসার্স সাদিয়াতুন ট্রেডার্স–এর মালিক খায়রুল ইসলাম পরান দাবি করেন, তিনি শুধু নিজ প্রতিষ্ঠানের ডিলার নন, বরং অপর একটি ডিলার প্রতিষ্ঠান মেসার্স কাজল এন্টারপ্রাইজ–এর মালিকানার দাবিও করেন। যা নিয়ে এলাকায় আরও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তা পরিদর্শক (পাট) আওরঙ্গজেব আতার সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর উপজেলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসনিমুজ্জামান জানান, এ বিষয়ে জেনে ডিলারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় টিসিবি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
উল্লেখ যে উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার জন্য ৩২ ডিলার রয়েছে। এর মধ্যে প্রভাবশালী কয়জন ৫ থেকে ৬টি করে ডিলার নিয়ন্ত্রণ করেন। যাহা সরকারের নির্দেশনা অমান্য যোগ্য।