
বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৩ তম আবির্ভাব দিবস পালিত হলো।
রিপোর্টার, সমরেশ রায় ও শম্পা দাস , কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ:
আজ ১২ ই জানুয়ারি সোমবার, ঠিক সকাল সাড়ে দশটায়, বউবাজার লেডি ভিক্টোরিয়া ডাফরিন হাসপাতালের বিপরীতে, পশ্চিমবঙ্গ আই এন টি ইউ সি সেবাদলের সভাপতি প্রমোদ পান্ডের নেতৃত্বে এবং পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ যুব কংগ্রেসের সাংগঠনিক অধিকর্তা ইমরান খানের সহযোগিতায়, যুব সমাজের প্রেরণা বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৩ তম আবির্ভাব দিবস পালন করলেন তাহার প্রতিকৃতিতে মাল্য দানের মধ্য দিয়ে।
উপস্থিত ছিলেন, আই এন টি ইউ সি সেবাদলের সভাপতি প্রমোদ পান্ডে, পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ যুব কংগ্রেসের সাংগঠনিক অধিকর্তা ইমরান খান, এছাড়া উপস্থিত ছিলেন শঙ্কর নাথ হাজরা ,শিলা চক্রবর্তী , সোমা দে সহ স্বামী বিবেকানন্দের অনুগামীরা। প্রত্যেকে একে একে স্বামীজীর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন এবং উপস্থিত ছিলেন প্রতিকী স্বামীজি স্বয়ং।
এরপর প্রতিকী স্বামীজিকে হাতে টানা রিক্সায় চাপিয়ে, ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিটি অলিতে গলিতে পরিদর্শন করেন এবং স্বয়ং একটি বার্তা দেন, সাম্প্রদায়িকতার যে বিষবাষ্প সরকারি মদতে আজ ভারতবর্ষের স্বাধীনতাকে বিপন্ন করেছে তার বিরুদ্ধেই স্বয়ং স্বামীজি কে নিয়ে আমাদের এই শোভাযাত্রা। জীবে প্রেম করে যেই জন- সেই জন সেবিছে ঈশ্বর, কষ্ট না করলে কোনদিন যেমন কেষ্ট মেলে না, মন থেকে হিংসা দূর না হলে কখনো ঈশ্বরকে পাওয়া যায় না। স্বামীজি কখনো ধর্মকে বিভেদ করেননি, সব সর্ব ধর্মের মানুষকে নিয়েই চলতে শিখে ছিলেন। আমরা তাই প্রতিকী স্বামীজিকে নিয়ে মানুষের মন থেকে হিংসা দূর করার ও শান্তির বার্তা দিলাম।
স্বামীজি বলেছিলেন ,আমাদের এমন ধর্ম চাই, যাহা আগামী দিনে মানুষ করতে পারে।
কিন্তু বর্তমান দিনে ধর্ম মানেই সাম্প্রদায়িকতার বিভেদ বিভাজন দাঙ্গা, আর এই বিভাজন আজ সরকারি মদতে ভারতবর্ষের স্বাধীনতাকে বিপন্ন করে চলেছে।।
তাই আজ আমরা আগুন জ্বালিয়ে সকলে অঙ্গীকার করলাম, স্বামীজীর সত্যাদর্শে চলার। হাতে টানা রিকশায় চেপে জাতি ধর্ম-বর্ণ ব্যতীত সাম্যের বার্তা দিলাম। এলাকায় এলাকায়,
আজকে স্বামীজীর ১৬৩ তম আবির্ভাব দিবসে। কয়েকটি কথা আমাদের হৃদয়ে মনে পড়ে যায়। যাকে নিয়ে আমরা গর্ব করি, আজ তাহাদের নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। যাহারা আমাদের প্রেরণা জগিয়েছে, যে বীর সন্ন্যাসী আমাদের আলোর পথ দেখিয়েছে, সকল ধর্মের মানুষকে এক করার চেষ্টা করেছেন, আজ সেই সকল ধর্ম নিয়ে হানাহানি বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে।
তাই বলি- প্রথমে অন্নের ব্যবস্থা করতে হবে, তারপর ধর্ম, যত বেশি আমরা বাইরে গিয়ে অন্যদের ভালো করব, আমাদের হৃদয় ততই বিশুদ্ধ হবে এবং ভগবান সেখানে বাস করবেন।।
সবচেয়ে বড় ধর্ম হল নিজের স্বভাবের প্রতি সত্য থাকা, এবং নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখা।
এই গুলোন যদি থাকে নিজের মধ্যে, কোন বাধায় আটকাতে পারে না।