
দ্বিতীয় তম বর্ষে, উত্তর কলকাতা খাদি মেলা ২০২৬ র শুভ উদ্বোধন হলো।
রিপোর্টার, শম্পা দাস ও সমরেশ রায়, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ : আজ ১০ ই জানুয়ারি শনিবার, রাজা রাজবল্লব স্টিট বাগবাজার এর গৌরী মাতা উদ্যানে, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় এবং পশ্চিমবঙ্গ খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদের উদ্যোগে, ৮ই জানুয়ারি খাদি মেলার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। এই মেলা চলবে ৮ই জানুয়ারি থেকে ১৯শে জানুয়ারি পর্যন্ত, প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত্রি ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মেলা প্রাঙ্গণ দর্শকদের জন্য।
এই মেলার শুভ সূচনা হয় গান্ধীজীর প্রতি কৃতিতে মাল্যদান ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে, মেলার শুভ উদ্বোধন করেন, এই মেলার শুভ সূচনা করেন মাননীয়া মন্ত্রী শিল্প বাণিজ্য ও উদ্যোগ এবং নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজ কল্যাণ দপ্তরের ডঃ শশী পাঁজা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রী অতীন ঘোষ বিধায়ক এবং ডেপুটি মেয়র কলকাতা পৌরসভা।, বিধায়ক ও মেয়র ইন কাউন্সিল কলকাতা পৌরসভার দেবাশীষ কুমার, উপস্থিত ছিলেন শ্রী কল্লোল খাঁ বিধায়ক এবং সভাপতি পশ্চিমবঙ্গ খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক ডক্টর মোশারেফ হোসেন, শ্রী উজ্জ্বল প্রামানিক সদস্য খাদিও গ্রামীণ পর্ষদ। জনাব মুজফফর খান সদস্য খাদিও গ্রামীণ পর্ষদ, শ্রীমতি লাভলি মৈত্র বিধায়িকা, সদস্য খাদীয় গ্রামীন পর্ষদ। সমীর কুমার পোদ্দার সদস্য খাদি ও গ্রামীণ পর্ষদ, মুস্তাক আহমেদ সদস্য খাদি ও গ্রামীণ পর্ষদ, শ্রী তরুণ সাহা বোরো চেয়ারম্যান বোরো ১ কলকাতা পৌরসভা। এবং সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করেছেন পূজা পাঁজা পৌর প্রতিনিধি ওয়ার্ড নম্বর আট।
মহাত্মা গান্ধীর তৈরি করা এই প্রকল্প, মহিলাদের স্বনির্ভর করে তুলেছে, আলোর পথ দেখিয়েছে, এই মেলার মূল উদ্দেশ্য তাদের হাতের জিনিস মানুষের সামনে তুলে ধরা। আজ সেই মহাত্মা গান্ধীর নাম পরিবর্তন করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর চাইতে লজ্জা কিছু নাই একজন দেশ বর্ণ র নাম মুছে দিতে চাইছে। সেটা কোনভাবেই সম্ভব নয় এই বাংলায়। আজ তাহারি একটি গান মনে পড়ে , মায়ের দেওয়া মোটা কাপড়- মাথায় তুলে নেরে ভাই। আজও সেই মোটা কাপড় মানুষের গায়ে গায়ে।
সারা বছরব্যাপী এই পর্ষদ খাদীয় গ্রামীন শিল্প জগতের নানান স্তরের মানুষকে নিয়ে সারা বাংলায় নানান কর্মসৃজন প্রকল্প বাস্তবায়িত করে চলেছে।
পশ্চিমবঙ্গ খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদ – ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ ও বস্ত্র দপ্তরের অধীনস্থ একটি সংস্থা। ১৯৫৯ সালে, এক্স আই ভি অনুযায়ী গঠিত হয়, ১৯৬০ সালের ১লা এপ্রিল থেকে এটির কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।
খাদি এবং গ্রামীন শিল্পী ক্ষুদ্র বিনিয়োগের মাধ্যমে, বৃহত্তর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার মধ্য দিয়ে, রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন করতে সক্ষম হন।
এই শিল্পকে সামনে রেখে, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর ,ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম ,বর্ধমান, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, চব্বিশ পরগনা উত্তর ও দক্ষিণ, দার্জিলিং সহ মোট ৭৯টি বিভিন্ন ক্লাস্টার সাফল্যের সঙ্গে রূপায়িত হয়েছে এবং প্রায় ৬২৯৮৯ জন শিল্পী সাফল্যের সাথে কাজ করে চলেছে।
খাদি বোর্ডের উল্লেখযোগ্য প্রকল্প গুলি হল- নিজস্ব হাতের তৈরি, টেরাকোটা , স্টোল কারভিং , ডোকরা, কাঁথাস্টিচ, শীতল পাটি, উডেন ডল ,কাঠের মুখোশ, নলেন গুড় ,পটচিত্র শিল্প, মধু, ছৌ মাক্স, মাদুর, হারবাল আবির ,প্লেট, বাটি ,কাপ সহ অন্যান্য সামগ্রী।
এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের লুপ্তপ্রায় মসলিম শিল্প, ১৬৮০০ জন শিল্পী এই প্রকল্পে কাজ করছেন , ৫৯০১ টি চরকা , আর ৪৯১৮ টি তাঁত, ৫৫৪ টি ওয়ার্কসেড বিতরণ, ২৬ টি কমন প্রোডাকশন সেন্টার, এবং চারটি মুসলিম তাঁত স্থাপন করেছেন।
মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী দেশের সকল স্তরে মানুষের জন্য , বিশেষ করে মহিলাদের উদ্যোগ বাড়াতে, গ্রামীণ ও খাদি শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, এমনকি সারা বছর জুড়ে বিভিন্ন জেলায় মেলার মধ্য দিয়ে তাদের হাতের জিনিস তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।, আজ এই মেলায় সেই সকল শিল্পীদের হাতের তৈরি সামগ্রী তুলে ধরা হয়েছে। এমনকি থাকছে এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিভিন্ন অন্যান্য অনুষ্ঠান। থাকছি বিভিন্ন শিল্পীদের হাতে তৈরি সামগ্রী দেখার ও কেনাকাটা সুযোগ বিশেষ ছাড়ে।