
এস আই আর নামে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা এবং হেয়ারিংয়ে ডাকার প্রতিবাদে পথসভা।
রিপোর্টার, সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ:
আজ ২৯ ডিসেম্বর সোমবার, ঠিক বিকেল তিনটায়, কলেজ স্ট্রীট বিদ্যাসাগর মূর্তির পাদদেশে, বিভিন্ন সংগঠনের উপস্থিতিতে, এস আই আর নিয়ে মানুষকে হেনস্থা ও হেয়ারিংয়ে ডাকার প্রতিবাদে পথসভা করলেন।
প্রতিবাদ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কমল সুর ও রঞ্জিত সুর সহ অন্যান্যরা।
এই সবাই যে সকল সংগঠন উপস্থিত ছিলেন, তাহাদের মধ্যে, নো এন আর সি মোভমেন্ট, এপিডিআর, প্রতিভাষ্য, সি এস এ, আজাদ গণ মোর্চা, জনসাস্থ্য মোর্চা, ক্রমরূপান্তর, মজদুর মুক্তি, এস আই আর বিরোধী নাগরিক উদ্যোগ দমদম ও রাজারহাট, ফ্যাসিবাদী বিরোধী নাগরিক উদ্যোগ বেহালা, এ আই পি এফ, বাংলার কৃষক শক্তি, সংগ্রামী কৃষক মঞ্চ, সংগ্রামী শ্রমিক মঞ্চ, গণ অধিকার মঞ্চ, নাস্তিক মঞ্চ, এস আই আর ,এন আর সি বিরোধী সংহতি মুর্শিদাবাদ, ভোটাধিকার রক্ষা মঞ্চ, শান্তিপুর জন উদ্যোগ, এফ আই আর, গণ প্রতিবাদী মঞ্চ, ভোটাধিকার ও নাগরিকত্ব সুরক্ষা মঞ্চ সহ অন্যান্য সংগঠন।
আজকের প্রতিবাদ থেকে তাহারা বলেন, এস আই আর এর সমস্ত তথ্য দিয়ে ফর্ম ফিলাপ করার পরেও নাগরিকদের হেয়ারিং এর নামে হেনস্থা করা হচ্ছে কেন, কেন হাজার হাজার মানুষকে হেয়ারিং এ ডাকা হচ্ছে, কিসের ভিত্তিতে, অবিলম্বে অসংবিধানিক এস আই আর সম্পূর্ণ বাতিল করতে হবে। ১৯৫২ সাল থেকে যেভাবে ভোটার তালিকা তৈরি হয়েছে, এতদিন কি করছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশন, আজ কেন এস আই এর নামে লক্ষ লক্ষ মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে, ৩০ থেকে বত্রিশ লক্ষ্য মানুষকে হেয়ারিং এ ডাকা হচ্ছে, এছাড়াও সম্মিলিয়ে প্রায় দেড় কোটি মানুষকে হেয়ারিং এ ডাকা হবে বলে জানা যায়। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ৫৮ লোকেরও বেশি মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।, আমরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাই, কাহারো সম্মতি ছাড়া কিভাবে তাকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হল,
স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরীর নামে চলছে অরাজকতা, তৃণমূল পার্টি অফিসে অফিসে চলছে ফরম ফিলাপের কাজ।, এটাকি স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি নমুনা। যদি আমরা নির্বাচন আইন ও সংবিধান আইন দেখি, দেখা যাবে ভোটার তালিকার কাজ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, কিন্তু এখানে শুরু হয়েছে এবং ভোটার তালিকা তৈরি হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী। নির্বাচন কমিশনকে নাগরিকত্ব আইন দেওয়া হয় না, হলে কিসের ভিত্তিতে তিনি ভোটার তালিকা তৈরি করছেন।
আসলে কর্পোরেট এজেন্টদের বাঁচাতে এবং পুঁজিবতীদের বাঁচাতে ও বড়লোক করতে এই ভোটার তালিকা তৈরি হচ্ছে, যাহাতে সাধারণ মানুষ পুজি পতিদের কাছে কম পয়সায় কাজ করে, থাকলে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করতে পারবে। তাই এস আই আর শুনানি শেষ হয়ে আশায় , সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তি করার জন্য সমস্ত ডকুমেন্ট দেওয়া সত্বেও তাদেরকে হেয়ারিং এ ডাকা হয়েছে।
এমনও আমাদের চোখে পড়েছে ৮০ বছরের এক বৃদ্ধাকে hearing এ ডাকা হয়েছে, যিনি ঠিকমতো চলতেই পারেন না,
আমরা প্রথম থেকেই এস আই আর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে এসেছি, বহু ডেপুটেশন দিয়েছি, আবারো প্রতিবাদ করছি, আমরা হিয়ারিং হতে দেব না, অবিলম্বে হিয়ারিং বন্ধ করতে হবে, সাধারণ মানুষের কাছে আমাদের আবেদন, আপনারাও সোজাগ হন, প্রতিবাদে গর্জে উঠুন, আর ভাঁউতা নয়, আমরা ভিটে মাটি ছেড়ে কোথাও যাবো না, আমাদের পূর্বপুরুষ ও বাবা-মায়ের জায়গাতেই আমরা থাকবো। আমরা ভয় পেয়ে একছিটে মাটি ছাড়বো না। নাগরিকত্ব আমাদের জন্মগত অধিকার। আমরা ছিনিয়ে নেবো।