
এক আসন, এক পরিবার, তিন প্রার্থী:
জামালপুর-৪ আসনে রাজনীতি নাকি পারিবারিক ক্ষমতার লড়াই?
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি : ১৪০-জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনে একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও চাচাতো বোনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক নেতারা বলছেন এটি কেবল নির্বাচনী প্রতিযোগিতাই নয়; বরং দলীয় শৃঙ্খলার অবক্ষয় ও পারিবারিক প্রভাবের স্পষ্ট প্রতিফলন।
জানা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম–এর পাশাপাশি তাঁর সহধর্মিণী মেহেরজান আরা তালুকদার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
একই সঙ্গে তাঁর চাচাতো বোন, সাবেক বিএনপির মহাসচিব ও প্রয়াত মন্ত্রী ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের কন্যা সালিমা তালুকদারও বিএনপি থেকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন এবং মাঠে নামার প্রস্তুতি নিয়েছেন। ফলে একই পরিবার থেকে তিনজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ রাজনৈতিক ও সচেতন মহলে প্রশ্ন তুলেছে—এটি গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতা, না কি পারিবারিক ক্ষমতার উত্তরাধিকার রক্ষার প্রচেষ্টা?
দলীয় মনোনীত প্রার্থীর বিপরীতে একই পরিবারের সদস্যদের স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়াকে দলীয় শৃঙ্খলার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। তাঁদের আশঙ্কা, এতে ভোট বিভক্তির পাশাপাশি তৃণমূলের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী তালুকদার পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই সরিষাবাড়ীর রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সচেতন মহল মনে করেন এ ধরনের উত্তরাধিকার ভিত্তিক রাজনীতি নতুন নেতৃত্বের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্র জানায়, শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) পর্যন্ত এ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
তারা হলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল, এনসিপি থেকে মোশাররফ হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে মুফতি মোখলেছুর রহমান জমিরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মাওলানা আলী আকবর সিদ্দিক, সিপিবি থেকে মাহবুব জামান জুয়েল, জাতীয় পার্টি থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আসাদুল্লাহ এবং নাগরিক ঐক্য থেকে কবীর হাসান , গণঅধিকার পরিষদ থেকে ইকবাল হোসেন তাদের প্রার্থিতার মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছেন।
এ আসনে ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ৮৮টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ভোটার সংখ্যা ৩,০৪,৯৯১ জন—এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৫১,৫২৮ জন, নারী ভোটার ১,৫৩,৪৬৩ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ জন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার সরকার জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।