
বড়দিনের ছুটিতে, বিভিন্ন চার্চে ও দর্শনীয় স্থানগুলিতে মানুষের ঢল চোখে পড়ার মত।
রিপোর্টার, সমরেশ রায় ও শম্পা দাস , কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ :
আজ ২৫শে ডিসেম্বর, সারাদেশে বড়দিনের উৎসব পালিত হচ্ছে, এবং চার্চে চার্চে শুরু হয়েছে প্রার্থনা ও অনুষ্ঠান, বড়দিনকে ঘিরেই বিভিন্ন চার্চে ও দর্শনীয় স্থানগুলিতে মানুষের ঢল নেমে এসেছে।,
সকাল থেকেই দর্শনার্থীরা ভিড় জমিয়েছে সপরিবারে ক্যাথিডাল চার্চ, অ্যালেন পার্ক সহ অন্যান্য চার্জগুলি এবং বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান, কালীঘাট মন্দির, ভিক্টোরিয়া, এম পি বিড়লা প্লাটনিয়াম, জাদুঘর, চিড়িয়াখানা, দক্ষিণেশ্বর মন্দির এমনকি ময়দান মাঠও বাদ যায়নি দর্শনার্থীদের ভিড়ে,
বড়দিনের ছুটি কাটাতে, কাল থেকেই বেরিয়ে পড়েছে দর্শনার্থীরা।, দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা তাদের ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের নিয়ে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে লাইন দিয়েছেন দেখার জন্য।, প্রতিটি দর্শনীয় স্থানে বিশাল বিশাল লাইন আর সেই লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা, তখন তার ছেলেমেয়েদের নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করবেন, কেউ দিয়েছেন ভিক্টোরিয়া লাইন, কেই দিয়েছে এম পি বিড়লা প্লাটোনিয়ামে, কেউ দিয়েছে চিড়িয়াখানায়, আর কাউকে দিতে দেখা গেছে চার্চে চার্চে, কেউ কেউ জানান আমরা ৫০ মিনিট দাঁড়িয়ে আছি লাইনে, আবার বলেন এক ঘন্টাও পার হয়ে গেছে, আবার কেউ বলেন প্রায় দেড় ঘন্টা। কখন বাচ্চাদের নিয়ে ভেতরে ঢুকবো এখনও বুঝতে পারছি না, বছরের এই দিনটিতে ছেলে মেয়েদের কথা রাখতেই আমাদের আশা, একটা জায়গায় লাইন দিতে গিয়ে মনে হয় না ছেলে মেয়েদের সম্পূর্ণ সব কিছু দেখাতে পারবো।
আর অনেকে লাইন দিয়ে চার্চে প্রবেশ করে ,প্রথমে জেসাসকে মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রার্থনা করেন, তারপর আস্তে আস্তে চার্চ এর ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়, শুধু দর্শনীয় স্থানগুলি নয়, আমাদের ক্যামেরায় ধরা পড়লো ময়দান মাঠ, এখানে দূর দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এসে কেউ কিছুটা বিশ্রাম নিচ্ছেন আবার কেউ দুপুরের খাবারটা বসে খাচ্ছেন এমনটাই চোখে পড়ল।
অন্যদিকে প্রশাসনের অফিসারেরা হিমশিম খাচ্ছেন দর্শনার্থীদের সামলাতে, চার্চে এবং বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ও জনবহুল রাস্তায়, যাহাতে কোনরকম দুর্ঘটনা না ঘটে সেদিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন দর্শনার্থীদের উদ্দেশ্যে, বারবার ঘোষণা করছেন, নির্দিষ্ট স্থান দিয়ে পারাপার হতে, যেন কোনরকম দুর্ঘটনা না ঘটে, শান্তি শৃঙ্খলা ভাবে দর্শনীয় স্থানে প্রবেশ করতে, মাঝে মাঝে আইপিএস অফিসারদেরও পরিদর্শনে দেখা গেল তদারকি করতে ও নির্দেশ দিতে,
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতে না নামতেই মানুষের ঢল আরো বাড়তে শুরু করে, সাথে সাথে মেট্রোতও দর্শনার্থীদের চাপ বাড়তে থাকে, প্রচুর আরপিএফ মোতায়েন করা হয়েছে স্টেশন স্টেশনে, এমনকি দেখা গেল মাঝে মাঝেই মেট্রো স্টেশনের গেট নামিয়ে দিতে কারণ এতটাই চাপের সৃষ্টি হয়েছে দর্শনার্থীদের, আরপিএফ রাও বারবার দর্শনার্থীদের উদ্দেশ্যে জানাতে থাকেন, আপনারা ধীরে সুস্থে, মেট্রো ধরুন, আমরা আপনাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব, কোনরকম উশৃংখলা সৃষ্টি করবেন না, সন্ধ্যে ছটা নাগাদ এতটাই মেট্রোতে দর্শনার্থীদের ভিড় জমে যায়, ফলে কিছুক্ষণ মেট্রোর দরজা নামিয়ে দিতে বাধ্য হন আরপিএফ এরা ও মেট্রো কর্তৃপক্ষরা, কিছুটা শিথিল হলে আবার দরজা তুলে দেন, প্রশাসন ভিড় সামলাতে দর্শকদের বিভিন্ন দিক দিয়ে ঘুরিয়ে দেন। দর্শনার্থীদের বলতে শোনা যায়, এইভাবে ঘোরালে আমরা রাস্তা ঠিক করতে পারবো না।, এবং সময়ে বাড়ি পৌছাতেও পারবো না। এতটাই জন জোয়ারে পরিণত হয়েছে।