
ঝড়বৃষ্টিতে ধান নষ্টের পর বিষন্ন কৃষকের ঝুলন্ত লাশ মিলল আকাশমণি গাছে ।
মোঃসুলতান মাহমুদ,স্টাফ রিপোর্টার।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি এলাকায় একটি আকাশমণি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় কবির হোসেন নামে এক বৃদ্ধ কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।
শনিবার (১৬ মে) সকালের দিকে বাড়ির পাশের একটি আকাশমনি বাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
কবির হোসেন (৬০) উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেংরা গ্রামের (চুক্কা বাড়ি) মৃত আমজাদ আলীর ছেলে।
স্থানীয় ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,’ জমির ধান নষ্ট হয়েছে বলে কবির হোসেন কয়েকদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। কৃষি অফিসের ওখানকার দায়িত্বে থাকা লোকজনের সাথে যোগাযোগ করেও পরামর্শ পাননি বলেও জানিয়েছেন তিনি। এছাড়াও কাঠের ব্যবসার অবস্থা ভালো না থাকায় এসব নিয়ে বিষণ্নতায় ভুগছিলেন এবং স্বাভাবিক আচরণ করছিলেন না। শুক্রবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাবার খেয়ে তিনি ঘুমাতে যান। তবে রাত ১২টা বেজে গেলেও তিনি ঘরে আসেনি। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান মিলেনি। পরে শনিবার সকালে বাড়ির পাশের বাগানের একটি গাছে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা।
নিহতের স্ত্রী সালমা খাতুন বলেন, ‘তিনি কাঠের ব্যবসা করতেন। সাথে এছাড়াও কৃষি কাজ করতেন। এবার কিছু টাকা ঋণ করে সাড়ে ৩বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছিলেন। কয়েকদিন আগের আকস্মিক ঝড়বৃষ্টির কারনে কিছু ধান নষ্ট হয়ে যায়। এনিয়ে কয়েকদিন ধরে বিষণ্নতায় ভুগছিলেন এবং মানসিকভাবে দুর্বল ছিলেন। শুক্রবার রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেও রাত ১২টার পর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। সকালে বাড়ির পাশে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয় লোকজন। পরে আমাদেরকে জানানো হয়। এ ঘটনায় আমাদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই।’
নিহতের মেয়ে রেখা জানান,’ বাবা কয়েকদিন ধরে খুব চুপচাপ ছিলেন। কারও সঙ্গে তেমন কথা বলতেন না। রাতে ঘুমানোর পর কখন বের হয়েছেন, কেউ বুঝতে পারেনি। সকালে বাড়ির পাশের গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পাই।’
আমির হোসেন নামে এক প্রতিবেশী বলেন,’কবির হোসেন সহজ-সরল মানুষ ছিলেন। কারও সঙ্গে তার শত্রুতা বা বিরোধ ছিল না। তবে, গত কয়েকদিন ধরে তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। দোকানে বসে ধান নষ্ট হওয়াসহ নানা উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলতো।’
ওই কৃষকের জমির ধান নষ্টের তথ্য আছে কিনা সে বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার প্রয়োজনে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইলে ফোন দিলে তিনি ছাড়পত্র নিয়ে দাপ্তরিক প্রশিক্ষণে আছেন বলে জানান। উনার পরিবর্তে ওই ব্লকে কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা বিলকিস আক্তারকে দায়িত্ব পালনের জন্য লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে । এখন কি উপায়ে ওই কৃষক যোগাযোগ করেছে তা উনার জানা নেই বলে জানান তিনি।
স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সদস্য শরীফ মিয়া বলেন, ‘ভোরে এলাকাবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি একটি আকাশমনি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ রয়েছে। পরে পুলিশকে খবর দেই।’
শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহীন আলম রশিদ জানান, ‘ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করি। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। ধান নষ্ট হওয়ার কারনে কিছুদিন ধরেই নাকি তিনি বিষণ্নতায় ভুগতেছিল। আমরা ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সাংবাদিক কে বলেন,’ জমির ধান নিয়ে বিষন্নতায় ভুগছিলেন ওই বৃদ্ধ। আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। রিপোর্ট হাতে পেলে এবং নিহতের স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’