
প্রতিবন্ধী ঐক্য মঞ্চের ডাকে, মানবিক ভাতা বৃদ্ধির দাবীতে অবস্থান-বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন।
রিপোর্টার, সমরেশ রায় ও সম্পা দাস, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ আজ ৫ই মার্চ বৃহস্পতিবার, দুপুর ১২ টায়, রাসবিহারী মোড়ে ,পশ্চিমবঙ্গ প্রতিবন্ধী ঐক্য মঞ্চের ডাকে, মানবিক ভাতার পরিমান বৃদ্ধির দাবীতে কয়েকশো প্রতিবন্ধী একত্রিত হয়ে অবস্থান বিক্ষোভ করলেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর নিকট ডেপুটেশন দিলেন।
বিভিন্ন জেলা থেকে কয়েকশো প্রতিবন্ধী এই অবস্থান-বিক্ষোভ সামিল হন, বিক্ষোভ কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল হাজরা মোড়ে। কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশে ও বাধা দেওয়ার ফলে তাহাদেরকে রাজবিহারী মরে এনে ব্যারিকেড করে দেন, তাহারা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন এবং অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন পশ্চিমবঙ্গ প্রতিবন্ধী ঐক্য মঞ্চের সভাপতি সনৎ মহন্ত এবং যুগ্ম সম্পাদক সৈকত কুমার কর।,
তাহারা বলেন আমাদের মানবিক ভাতা অবিলম্বে এক হাজার টাকা থেকে ৫০০০ টাকা করতে হবে, এবং মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী সহিত দেখা করা তো হবে আমরা মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সাথে কথা বলতে চাই। বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান বিক্ষোভ দেখানোর পর, প্রশাসনের তরফ থেকে কোনরূপ সহযোগিতা না পাওয়ায় তারা রাস্তা অবরোধ করে মুখ্যমন্ত্রী বাড়ির দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তাহারা বলেন যতক্ষণ না মুখ্যমন্ত্রী সহিত আমাদের দেখা করাচ্ছে এবং আমাদের দাবী মেনে না নিচ্ছে, আমরা এখান থেকে এক পাও সরবো না, এরপর তাহারা রাস্তা অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন, প্রশাসনের অফিসাররা বারবার বোঝানোর চেষ্টা করলেও তারা এক চুলও নড়চড় হননি।
তাহারা বলেন আমরা এতক্ষণ ধরে প্রশাসনকে অনুরোধ করেছিলাম কিন্তু কোন ভাবে আমাদের সাথে সহযোগিতা করেননি। আমরা বাধ্য হয়েছি মুখ্যমন্ত্রী শহীদ দেখা করার জন্য রাস্তা অবরোধ করতে ও এগিয়ে যেতে, সাথে সাথেই প্রশাসনের তরফ থেকে ব্যারিকেড দেয়ার চেষ্টা করলে প্রতিবন্ধী ভাই ও বোনেরা সমস্ত ব্যারিকেড একের পর এক ভেঙে রাসবিহারী মুখে এসে পৌঁছান।, শেখানো ব্যারিকেড দিলে সেই ব্যারিকেট ভেঙে আরো কিছুটা এগলে আরো ব্যারিকেট দিতে শুরু করেন এরপর সমস্ত অফিসাররা তাদের সাথে আলোচনা শুরু করেন এবং বলেন আমরা নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করছি।
তাহারা বলেন আমরা বারবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ডেপুটেশন দিয়েছি আমাদের এক হাজার টাকা ভাতা যেন পাঁচ হাজার টাকা করা হয়। কিন্তু আমাদের কথা কোনোভাবেই কর্ণপাত করেননি, বাধ্য হয়েছি আজকে এই আন্দোলন করতে। দরকার পড়লে আমাদের উপর গুলি চালান আমরা মরতেও ভয় পাই না, আর এটুকু জেনে রাখবেন আমরা প্রতিবন্ধী হলেও দুর্বল নয়। কিভাবে আমাদের দাবি আদায় করে নিতে হয় আমরা জানি। মুখ্যমন্ত্রী যদি ভেবে থাকেন আমাদের দয়া ভিক্ষা করছেন এটা সম্পূর্ণ ভুল। আমাদের ন্যায্য অধিকার আমরা আদায় করবই।
তারা বলেন ২০১৮ সালে রাজ্য বাজেটে যখন রাজ্যের প্রতিবন্ধী ভাতার নাম বদলে আপনি- মানবিক ভাতা রাখলেন, তখন আমরা ভেবেছিলাম এবার বুঝি প্রতিবন্ধীদের দুদিন মুছলো। কিন্তু তারপরও আট বছর কেটে গেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশ ছুঁয়েছে ওষুধপত্র বড় লোকের বিলাসিতার পর্যায়ে পৌঁছেছে কিন্তু আমাদের জন্য বরাদ্ধ ভাতার পরিমাণ এতটুকু পরিবর্তন হয়নি। ২০১৮ সালে যে ভাতার পরিমাণ ছিল ১ হাজার টাকা ছিলো, আট বছর পেরিয়ে গেলেও তার পরিমাণ অপরিবর্তিত রয়েছে। একের পর এক প্রতিবন্ধীদের স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ছেলেমেয়েরা প্রাইভেটে গিয়ে পড়াশুনা করছে,
আপনারা গিয়ে দেখে আসুন, অন্যান্য রাজ্যে প্রতিবন্ধীরা ভাতা পান এই রাজ্যে তুলনায় দুই বা তিনগুণ বেশি হারে, তেলেঙ্গানায় মাছের চার হাজার টাকা, প্রতিবেশী ছোট রাজ্য ত্রিপুরায় 2000 টাকা। নিশ্চয়ই এগুলো মুখ্যমন্ত্রী অজানা নায়। এমনকি প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা ক্ষেত্রে যেসব বিশেষ বিদ্যালয়গুলো ছিল সেগুলো আজ শিক্ষকহীন পরিকাঠামোহীন অবস্থায় ধুঁকছে , ইনক্লুসিভ এডুকেশনের নামে রাজ্য তথা দেশ জুড়ে চলছে এক ভয়াবহ প্রহসন, সরকারি চাকরির বাজার মন্দা, শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা সারাদেশের পাশাপাশি রাজ্যেও রেকর্ড ছুঁয়েছে, বেসরকারি কাজের বাজারে যখন বিরাট প্রতিযোগিতা তখন প্রতিবন্ধীদের মতো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাজের সুযোগ যে প্রায় নেই বললেই চলে, তাই প্রতিবন্ধী মানুষের জীবন ধারণের একমাত্র অবলম্বন প্রতিবন্ধী ভাতা, সেটাও রাজ্য সরকার ভাবছেন না, তাই আজ এখান থেকেই প্রতিবন্ধী ভাইবোনেরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, হয় আমাদের ভাতা বাড়াতে হবে নচেৎ আমরা পথ অবরোধ করব তাতে আমাদের উপর গুলি চালাতে পারলে চালাক। গুলি করে আমাদের মারুক, আমরা দেখতে চাই। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী নিত্য নতুন প্রকল্প খুলছেন অথচ প্রতিবন্ধী ভাইবোনদের কথা ভাবেন না। তাদের কষ্ট , কীভাবে জীবনযাপন করছে একবারও তাকিয়ে দেখেন না,