
সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির– ৩০তম সম্মেলন ও প্রকাশ্য সমাবেশ এবং বই প্রকাশ।
রিপোর্টার, সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ:
আজ ২১শে ডিসেম্বর রবিবার,ঠিক দুপুর ১:৩০ টায়, রানী রাসমণি রোডের সংযোগস্থলে, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির আহবানে, সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির –৩০ তম সম্মেলন ও প্রকাশ্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন , সকলের আইকন, সর্বভারতীয় নেত্রী অন্যতম পেট্রন কমরেড বৃন্দা কারাত, অল ইন্ডিয়া জেনারেল সেক্রেটারী মরিয়ম ধাওয়াল, প্রাক্তন সম্পাদক মিনতী ঘোষ, রাজ্য কমিটির সভাপতি জাহানারা খান, কনিনিকা ঘোষ, দেবলীনা হেমব্রম, মীনাক্ষী মুখার্জী, রাজ্যের প্রাক্তন সভাপতি সাবিত্রী মজুমদার , কমরেড রেখা গোস্বামী সহ অন্যান্যরা।
অনুষ্ঠান শুরু হয় সুন্দর গণ সংগীতের মধ্য দিয়ে, এরপর শিল্পীরা বেশ কয়েকটি সংগীত পরিবেশন করেন।
আজকের সমাবেশ থেকে তারা ২২শে ডিসেম্বর যে প্রতিনিধি সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন, শিবানী ভৌমিক ও লক্ষীমণি মঞ্চ ও তিলোত্তমা কক্ষ- রথীন্দ্রমঞ্চ জোড়াসাঁকোয় এবং ঐদিন উদ্বোধক হিসাবে থাকবেন কমরেড মরিয়ম ধাওয়াল এ ছাড়া উপস্থিত থাকবেন সর্বভারতীয় সভাপতি পি কে শ্রীমতি, তাহার সাথে সাথে ওই দিনের অনুষ্ঠানে সকাল ন’টায় উত্তোলন হবে ত্রিশ তম সম্মেলনের পতাকা, তাই আজকের মঞ্চ থেকে সকলকে আহ্বান জানান, আজকের সভায় কয়েক হাজার মহিলা সদস্য সমাবেশে উপস্থিত হন বিভিন্ন জেলা থেকে। এবং সমাবেশে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে উঠেন।।
সমাবেশে একটি ট্রাক লাইন ব্যবহার করেন, দোঁহের মসালে হোক রাত পাহারা বজ্র আঘাতে ভাঙ্গো ধর্ম কারা, এইটা এক লাইনের মধ্য দিয়ে বোঝাতে চেয়েছেন সারাদেশে যেসব ঘটনা ঘটেছে আমরা তার ধিক্কার জানাই এবং এর প্রতিবাদ জানাই, যাহার আজ পর্যন্ত একটিও দোষী শাস্তি পায় নি, তাই আমরা আজকের এই মঞ্চ থেকে জানিয়ে দিতে চাই, যতদিন না দোষীদের শাস্তি হবে এই মহিলা সমিতি তাদের ছাড়বে না। শাস্তি তাদের পেতেই হবে, যেখানেই মহিলাদের উপর অত্যাচার হবে আমরা আছি তাদের পাশে। এবার মহিলারা গর্জে উঠেছে, প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে।
আমার বোন আমার মেয়ে আমার পরিবার, বিলকিস আত তিলক তোমা থেকে তামান্না, কসম তাদের এই মাটিতে অপরাধীদের ছাড়বো না।
এই মঞ্চ থেকে সবাইকে প্রতিজ্ঞা করতে হবে, যতদিন না সকল বোনের দোষীদের শাস্তি না হয়, ধরা না পড়ে, আমরা এক ফোঁটা জমি ছাড়বো না।
এমনকি প্রশাসন কেউ সাবধান করে দিচ্ছি, যত ঘুষ খাও, যত দালালী করো, দোষীদের আড়াল করো, আর নিজেদের পেট মোটা করযে, ,ওটা কাজে লাগবে না, ওটা বিফলে পরিণত হবে, আজ নারী শক্তি জেগেছে। যেখানেই অন্যায় হবে এই নারী শক্তি এগিয়ে যাবে। তাই আপনারাও সাবধান হন। আজ মঞ্চ থেকে বুঝতে পারছেন মহিলারা আর পিছিয়ে নাই, প্রতিবাদ করতে শিখেছে। আর পুলিশ মন্ত্রী কেউ মনে করিয়ে দিই, বেশি দিন আর দমিয়ে রাখতে পারবেন না, আপনাকে ২৬ এর ভোটে বুঝিয়ে দেবে, গুন্ডা দিয়ে, দালাল দিয়ে ধুমকি চুমকি সাধারণ মানুষকে বোকা বানাতে পারবেন না। জেলায় জেলায় আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবো, তাই সাবধান হন।
মঞ্চে একের পর এক কমরেডরা, বিভিন্ন ভাবে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের উপর প্রতিবাদের গর্জন তুললেন, একদিকে ১০০ দিনের কাজ বন্ধ, মিড ডে মিলের মান খারাপ, আবাসন যোজনার টাকা পেতে গিয়ে ঘুষ, চাকরিতে ঘুষ, কলেজে কলেজে ভর্তি হতে গেলে বেশি টাকা দিতে হয়, সব জায়গায় তৃণমূল দালালের রাজত্ব, প্রতিবাদ করতে গেলে হতে হয় খুন ধর্ষণ, আর খুন ধর্ষণ করলে, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাত গুণ মাপ, কারণ তার বিচার হয় না, দশীরা ছাড়া পায়, নির্দোষীরা জেলে যায়, এটাই রাজ্য সরকারের আইন, তাই আমরাও জানিয়ে দিতে চাই, নারী শক্তি জেগেছে, কাউকে ছাড়বে না, আমাদের বোনেদের ও মেয়েদের যেভাবে মারা হয়েছে সেই সকল দোষীদের আমরা খুঁজে বের করবোই এবং শাস্তি দিয়ে ছাড়বোই। তাই এই মঞ্চ থেকে আজ সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবে, একটাই প্রতিবাদ দোষীদের শাস্তি চাই।
সর্বশেষে মহিলা সমিতির উদ্যোক্তা জানান, আমাদের সভা যাতে না করতে পারি, আজকে যে মঞ্চে আমরা সভা করছি, এটার পারমিশন নিতে গিয়ে আমাদের কাল ঘাম চুদিয়ে দিয়েছে প্রশাসন, প্রায় কুড়ি দিন ধরে লড়াইয়ের পর আমরা তবেই এই জায়গায় সমাবেশ করতে পেরেছি, কারণ ওনারা মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর কথায় উঠে আর বসেন, পুলিশ মন্ত্রীর নির্দেশ মতো চলেন, যাহা করতে বলেন তাই করেন, তাতেও আমাদের আটকে রাখতে পারলেন না, আজ কয়েক হাজার মহিলার জমায়েতে সমাবেশ করছি। আজকের এই সমাবেশ থেকে দুটি বই উদ্বোধন হয় বৃন্দা কারাতে হাত দিয়ে, এবং ৩০ তম সম্মেলন উপলক্ষে একটি ম্যাগাজিনও প্রকাশিত হয়।