
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসির ঘটনাকে কেন্দ্র করে, গোষ্ঠ পালের মূর্তির সামনে প্রতিবাদ সভা।
রিপোর্টার, সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ,
আজ ১৫ ই ডিসেম্বর সোমবার, ঠিক দুপুর তিনটায় , সর্বকালের সেরা ভারতীয় ফুটবলার, গোষ্ঠ পালের মূর্তির সামনে, ১৩ ই ডিসেম্বর মেসির ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতা যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে বিশৃংখলার সৃষ্টি হয়েছিল এবং সারা মার উত্তাল হয়ে উঠেছিল, খেলা প্রেমীদের খোভ ফেটে পড়েছিল, তারই প্রতিবাদে এবং ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর পদত্যাগের দাবীতে ও গ্রেফতারির দাবীতে এবং অন্যান্য দাবী নিয়ে আজ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভা চলে সন্ধ্যা ছটা পর্যন্ত, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এবং প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে।
ক্রীড়া মন্ত্রী ও প্রশাসনের ব্যর্থতা প্রমাণ করে দিয়েছে কলকাতার ঐতিহ্যকে, বাংলার গর্ব যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন, আজ বাঙালি খেলা প্রেমীদের কাছে মাথা নত করে দিল, শুধু তাই নয় সারা দেশ জুড়ে ওইদিনের ঘটনা বাঙ্গালীদের কাছে লজ্জা কর, সাধারণ মানুষ টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও দেখতে পেল না মেসিকে, সারা মাঠ জুড়ে চললো মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও সুজিত বসুর সেলফি তোলা, তাহার সাথে সাথে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির আর্টিস্টদের আনাগোনা মেসিকে ঘিরে, শুধু তাই নয় সাধারণ মানুষের বক্তব্য, যিনি অর্গানাইজার ছিলেন, সেই শতাব্দী দত্ত কিভাবে এই সকলকে মাঠের মধ্যে এলাও করেছিলেন যেখানে দেখা গেছে একজন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের মহিলা কর্মীও ওই স্থানে ছিলেন, আরো লজ্জা কর মাননীয় রাজ্যপাল কে ভেতরে না ঢুকতে দিয়ে আটকে রাখা। তৃণমূলের স্বেচ্ছাচারিতা একের পর এক আগুন তুলে দেখিয়ে দিল বাংলায় কি ঘটছে,
আজকের সভায় উপস্থিত ছিলেন , আইনজীবী শামীম আহমেদ, আইনজীবী অর্ক, রুপসা সাহা, সুরঞ্জনা, রূপকথা, তপন সাহা সহ অন্যান্য প্রতিবাদীরা।
আমাদের দাবী সমূহ…..
মেসির নামে টিকিট বিক্রী করে হাজারো ফুটবল প্রেমীর থেকে লুট করে নেওয়া টাকা অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে।
রাজ্য সরকার তথা প্রশাসনকে এর দায় নিতে হবে, ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর অবিলম্বে পদত্যাগ ও গ্রেফতারি চাই।
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সংস্কারের জন্য, জরুরি ভিত্তিতে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাংলার ফুটবলকে লুটেরা মুক্ত করতে হবে।
কাহার নির্দেশে, মাঠের মধ্যে বিভিন্ন খাবার ও জল বিক্রি করা হলো তাহার জবাব দিতে হবে।
তাহারা আরো বলেন, সাধারণ মানুষ ও খেলা প্রেমী মানুষেরা, কষ্টের ঘাম মাথায় ফেলে ইনকাম করে সেই টাকা থেকে, না খেয়ে, তারা পাঁচ হাজার থেকে শুরু করে ১৪ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কিনে মাঠে গিয়ে মেসিকে দেখার জন্য যায়, দূর দূরান্ত থেকে তারা মাঠে এসে পৌঁছায় রাত জেগে, কিন্তু প্রশাসনের ব্যর্থতা ও মন্ত্রীদের নির্লজ্জ পানা, সেলফি তুলা কে কেন্দ্র করে, মেসিকে দেখতে কেউ পেল না এর দায় কে নেবে, কেন মাঠে এত নেতা নেত্রী এবং আর্টিস্টদের ভিড়, কেন সবাই মেসিকে ঘিরে রেখেছিলেন। শুধু তাই নয়, আমরা যখন অন্যান্য খেলা দেখতে যাই মাঠে জল ও খাবার নিয়ে যাওয়া নিসিদ্ধ ছিল, গলা শুকিয়ে গেলেও জল পেতাম না, এখানে কিভাবে এই সকল জিনিস ভেতরে ঢুকতে দেয়া হল, শুধু তাই নয়, ১০ টাকার জিনিস ১০০ টাকা কুড়ি টাকার জিনিস 200 টাকা 30 টাকার জিনিস আড়াইশো টাকা দামে বিক্রি করা হলো, তাহলে কি এতেও ঈর্ষা রয়েছে, কেন সাধারণ মানুষ টিকিট কেটে দেখতে পেল না এর জবাব দিতে হবে। এবং প্রশাসনকে নিজের দায়িত্বে সমস্ত টাকা ফেরত এর ব্যবস্থা এবং দোষীদের গ্রেফতার করতে হবে, আমরা আর টাকা লুট হতে দেব না, তাই আজ এই গোষ্ঠ পালের মূর্তির সামনে থেকে সকল ফুটবলপ্রেমীকে সঙ্ঘবদ্ধভাবে এর প্রতিবাদে সামিল হওয়ার জন্য আহ্বান জানাই।, সব খেলার সেরা বাঙালির ফুটবল আমরা নষ্ট হতে দেব না, মোহনবাগান মাঠ থেকে শুরু করে ,মোহামেডান মাঠ পর্যন্ত লুটেরা দের মুক্ত করতে হবে, তৃণমূলের একের পর এক ঘটনা মানুষের চোখ খুলে দিচ্ছে, আজ বাঙালিরা বুঝতে পারছে, সাধারণ মানুষের পেটে লাথি মেরে একের পর এক অনুষ্ঠানের নামে টাকা লুট করার চেষ্টা।
তাই আজ একদিকে যেমন খেলা প্রেমীরা জেগে উঠেছে, প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, তেমনি আজ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও মন্ত্রী সুজিত বসুর পোস্টার হাতে নিয়ে পদত্যাগ ও গ্রেফতারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে বিভিন্ন সংস্থা।