
,ফুলপুরে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ক্ষোভে বিষপানে আত্মহত্যা
ফয়জুর রহমান (ময়মনসিংহ) ফুলপুর প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, এই লজ্জা ও মানসিক আঘাত সইতে না পেরে ওই কিশোরী বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে। গত রোববার (২৯ মার্চ) রাতে উপজেলার ভাইটকান্দি ইউনিয়নের বড় শুনোই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কিশোরীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেয়েটির মা-বাবা জীবিকার প্রয়োজনে ঢাকায় থাকেন। ছোটবেলা থেকেই সে গ্রামে তার দাদি অরুনা খাতুনের কাছে বড় হচ্ছিল। গত রোববার রাত ১০টার দিকে ওই কিশোরী তার দাদিকে জানায় যে সে বিষপান করেছে। অসুস্থ অবস্থায় সে তার দাদির কাছে অভিযোগ করে, প্রতিবেশী আলাল মিয়ার ছেলে রুবেল (৩৫) তাকে ধর্ষণ করেছে। লোকলজ্জার ভয়ে এবং মানসিক যন্ত্রণায় সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে বলে জানায়।
পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রুবেল এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছেন।
নিহতের দাদি অরুনা খাতুন বিলাপ করতে করতে বলেন, “আমার নাতনিটা অনেক স্বপ্ন নিয়ে বড় হচ্ছিল। রুবেল ওর জীবনটা শেষ করে দিল। আমি এই পশুবৎ আচরণের বিচার চাই।”
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই জঘন্য অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। সচেতন মহলের মতে, অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া না হলে এ ধরনের সামাজিক অপরাধের প্রবণতা কমবে না। কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পরিবার, সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। আশা করছি খুব দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”
পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের পর কিশোরীর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যাবে।