
তেতুলিয়া কৃষকের গমের চাষে উৎপাদন খরচও উঠছে না
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি খাদেমুল ইসলাম! তেতুলিয়া উপজেলায় গমের ন্যায্য মুল্যে পাচ্ছি না কৃষক। এমনকি গম চাষে উৎপাদন খরচ তুলতে পারছে না তারা । গমে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষকেরা।তেতুলিয়া হাট বাজারে গমের ন্যায্য মূল্যের অভাব ও সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করতে না পারা এবং কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় গম চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষক। গমের স্থলে , ভুট্টা, অন্যান্য ফসলের চাষাবাদে ঝুঁকছেন তারা।
পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ২১ হাজার ১৫৮ হেক্টর জমিতে গমের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আর আবাদ হয়েছে ২০ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে তেঁতুলিয়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি গম চাষ করা হয় । সেখানে ৬ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে গম চাষ করা হয়েছে । বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি মণ গম ১০০০ টাকা থেকে ১১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির পূর্বে তেতুলিয়া অঞ্চল মঙ্গাপীরিত ছিল।
গমের রুটি খেয়ে জীবন ধারণ করত। তাই প্রচুর পরিমাণে গেমের চাষাবাদ দেখা যেত। দিন পরিবর্তন হয়েছে।
উত্তরের সীমান্তবর্তী তেতুলিয়া একসময় গম উৎপাদনে এগিয়ে থাকলেও এখন ক্রমাগত লোকসান হওয়ায় গম চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্য ফসল উৎপাদনে ঝুঁকছেন চাষীরা। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত গম সরকারের খাদ্যগুদামে বিক্রি করতে পারেন না। বাজারে গমের ন্যায্য মূল্য না থাকা ও সরকার নির্ধারিত দরে বিক্রি করতে না পারায় এবং কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়া এমন নানা কারণে দিন দিন গম চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন এ অঞ্চলের চাষিরা।
উপজেলার তিরনই হাট কৃষক হাফিজুর রহমান বলেন, গম চাষ করে লাভ নেই তাছাড়াও বাজারে গমের থেকে মরিচ , ভুট্টা চাহিদা এবং দাম বেশি। সরকারি ভাবেও যথা সময়ে গম কেনা হয় না। খাদ্যগুদামে সরকারিভাবে গম কেনার তালিকায় প্রকৃত কৃষকদের নামও থাকে না। সরকার গম কেনার জন্য দাম নির্ধারণ করে দিলেও এর সুফল পায় সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। তাই গম চাষে তেমন আগ্রহ নেই কৃষকদের।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবরিনা আফরিন বলেন, কৃষকরা সব ধরনের ফসলই চাষ করছেন। তবে গম চাষে কৃষদের আগ্রহ কম। মুলত কৃষকরা যখন উৎপাদিত পণ্যের দাম কম পান তখন একটু সমস্যা হয়। কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।