
ফুলপুরে দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে ওয়ারিশান সম্পত্তি দখলের অভিযোগ
ফয়জুররহমান, (ময়মনসিংহ)ফুলপুর প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের ধন্তা এলাকায় দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে ওয়ারিশান সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, আ. রহমান ও আবুল কালাম গংদের ওয়ারিশান সূত্রে প্রাপ্ত জমি কৌশলে দখল করে নিয়েছেন পার্শ্ববর্তী গ্রামের সাইদুল ইসলাম, মিয়া হোসেন ও মনির হোসেনসহ তাঁদের সহযোগীরা।
ভুক্তভোগী মো. আব্দুর রহমান অভিযোগ করেন, তাঁর নানা মৃত মালেক উস্তরের কোনো ছেলে সন্তান ছিল না। তাঁর মা ও খালারা তিন বোনই বৈধ উত্তরাধিকারী। এই সুযোগে পার্শ্ববর্তী গ্রামের সাইদুল ইসলাম, তাঁর ভাই মিয়া হোসেন এবং ভাতিজা মনির হোসেন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে তাঁদের বেশ কিছু ওয়ারিশান সম্পত্তি দখল করেন। বর্তমানে অবশিষ্ট জমিও দখলের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা যে জমি নিজেদের দাবি করছেন, তা ভুক্তভোগীদের জমি থেকে দাগ, খতিয়ান ও মাঠপরচা অনুযায়ী পৃথক। তা সত্ত্বেও ক্ষমতা ও টাকার প্রভাব খাটিয়ে ভুক্তভোগীদের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
আব্দুর রহমান বলেন, “সাইদুল ইসলাম নিজেকে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতেন। সেই প্রভাব দেখিয়ে আমাদের জমির ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে দখল নেওয়া হয়। আমরা একাধিকবার আইনের আশ্রয় নিলেও প্রভাব ও টাকার কারণে ন্যায়বিচার পাইনি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাল দলিলের মাধ্যমে তাঁদের কয়েকটি জমি অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এ–সংক্রান্ত একাধিক মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তবে বিবাদীপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আদালতে দাখিল না করে বারবার সময় প্রার্থনা করে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করছে এবং বিভিন্নভাবে তাঁদের ভয়ভীতি ও হয়রানি করছে।
আব্দুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে সাইদুল ইসলামের লোকজন তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার সহযোগিতায় তিনি মুক্ত হন। এ ছাড়া কয়েক দিন আগে একটি ওয়াজ মাহফিলে যাওয়ার পর তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সাইদুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী পরিবার দলিল জালিয়াতি ও জমি দখলের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার না হলে এলাকায় ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্য আরও বাড়তে পারে।