
টিকিট কেটেও মাঠে মেসিকে দেখতে না পেয়ে- দর্শকেরা মাঠের চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করেন ।
রিপোর্টার, সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ,
আজ ১৪ ই ডিসেম্বর রবিবার, রেস কাটেনি এখনও যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের, ১৩ ই ডিসেম্বর শনিবার, ঠিক সকাল দশটায়, খেলা পাগল দর্শকেরা, টিকিট কেটেও মেসিকে না দেখতে পেয়ে, তান্ডব চালালো মাঠে, মাঠের চেয়ার-টেবিল থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু ভাঙচুর চালায়, এমনকি গালিগালাজ দিতেও ছাড়েননি, শুধু তাই নয়, পুলিশের সাথেও চলে বাক বিতণ্ডা থেকে শুরু করে ধস্তাধস্তি পর্যন্ত এবং চোর বলে তিরস্কার। সারা মাঠজুড়ে দর্শকরা উত্তাল। তাহারা চেঁচিয়ে বলে ওঠে ভোটের টাকা জোগাড় করতেই এই পরিকল্পনা , অবিলম্বে আমাদের টাকা ফেরত দিতে হবে।
মাঠে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, মন্ত্রী সুজিত বোস সহ একাধিক নেতা নেতৃবৃন্দ এবং সিনেমা ও সিরিয়াল জগতের কলাকুশলীরা। সকলে মিলে মেসিকে ঘিরে ধরায় দর্শকেরা আরো উত্তাল হয়ে ওঠে, তারা বারবার সরে যেতে বললেও না সড়ায়, ওপর থেকেই তারা গালিগালাজ শুরু করে। তাহারা জানান আমরা আপনাদেরকে দেখতে আসিনি, আমরা মেসিকে দেখতে এসেছি, আমাদের প্রিয় খেলোয়াড়কে, আর মেসিকে দেখার জন্যই আমরা টাকা দিয়ে মাঠে ঢুকেছি।, কিন্তু দর্শকদের কথা কর্ণপাত না করায়, মেসিকে দেখতে না পাওয়ায়, এবং মেসি মুহূর্তের মধ্যে চলে যাওয়ার পরেই শুরু হয়ে যায় তাণ্ডব মাঠের মধ্যে। প্রশাসনের তরফ থেকে সমস্ত রকম চেষ্টা চালালেও রুখতে পারেনি দর্শকদের, চলতে থাকে পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি এবং সর্বশেষ পুলিশ লাঠিচার্জ করলে আরো উত্তাল হয়ে ওঠে মাঠ। দর্শকদের একটাই জবাব, এখানে নেতা মন্ত্রী ও আটিস্টরা কেনো, আমরা যাকে দেখতে এসেছি তাকে দেখার ব্যবস্থা করে দিক, নচেৎ আমাদের টাকা ফেরত দিতে হবে।
সারা মাঠ জুড়ে দশকরা ছুটাছুটি শুরু করেন একদিকে,আর অন্যদিকে চলে চেয়ার ভাঙ্গার কাজ, চেয়ারের টুকরোয় মাঠ ভরে যায়, বরফ বৃষ্টির মত মাঠে পড়তে থাকি চেয়ার ভাঙ্গা, আবার কেউ কেউ রাগে বসে, আরেকটু বড় এবং অন্যান্য জিনিস নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন, আপনারা বলেন কি করবো, যাকে দেখতে এসেছিলাম দেখতে পায়নি তাই এগুলো নিয়ে যাচ্ছি। আবার কেউ বলেন আমি কার্পেটটা কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছি। বাড়িতে গিয়ে প্র্যাকটিস করবো।
এদিকে আবার বহু দর্শক টিকিট কেটেও মাঠে ঢুকতে না পারায় সাংবাদিকদের সামনে, তাদের খোভ উপড়ে ফেললেন, কেউ বলেন আমি বারো হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেছি।, কেউ বলেন আমি ৫০০০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে ভেতরে ঢুকতে পারিনি, কেউ বলেন আমি ১৪ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেছি, একবার মেসিকে দেখার জন্য, আসানসোল থেকে,কেউ এসেছেন পুরুলিয়া থেকে, কেউ এসেছেন মালদা থেকে, সকলে রাত জেগে মাঠে এসে পৌঁছেছেন, তাও মাঠে ঢুকতে পাননি, ফলে আর ও রোসের সৃষ্টি হয়, তাদের একটাই দাবি অবিলম্বে টাকা ফেরত দিতে হবে, এবং এই রকম ঘটনার জন্য মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। এমনকি মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস কেউ কটুক্তি করতে ছাড়েননি, তাহারা বলেন প্ল্যান করে ভোটের টাকা তোলার জন্যই আমাদেরকে এইভাবে ঠকিয়েছে, সমস্ত কিছুতেই চুরি বাটপারী, আর জনগণকে ঠকানোর কাজ, তারা আরো বলেন যদি আমাদের টাকা ফেরত না দেয় ২০২৬ এ বুঝিয়ে দেবো।
বেশ কিছুক্ষণ ভাঙচু চলার পর এবং পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি ও গণ্ডগোলের পর, জানা যায় কর্তৃপক্ষরা দর্শকদের টাকা ফেরত দেবেন, ডিজি রাজীব কুমার জানিয়ে দেন যে দর্শকদের টাকা ফেরত দিতে হবে। তাহার সাথে সাথে শতদ্রু দত্তকে প্রশাসন গ্রেফতার করেন। অন্যদিকে দর্শকরা বলেন, হায়দ্রাবাদ এ মেসি গিয়েছিল, একই এজেন্ট কাজ করেছে, সেখানে তো কোন বিশৃঙ্খলা হয় না, মাঠে বসে দর্শকরা মেসিকে দেখতে পেয়েছেন।, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে এরকম ঘটনা হলো কেন, সারা মারজুড়ে, প্রশাসন ব্যর্থ কেনো, কেন আমাদের হ্যারেসমেন্ট করা হলো, তাহার জবাব দিতে হবে। আর আমাদের টাকা অতি শীঘ্রই ফেরত দিতে হবে। অনেকে আবার ক্রিড়ামন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীর নাম সামনে আনেন।