
চারটি ধর্মের সমন্বয়ে- সমাজকে নতুন বার্তা দিতে, দেবী অন ক্যানভাস প্রদর্শনী শুভ সূচনা হলো।
রিপোর্টার সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ: ২৭শে মার্চ শুক্রবার, কলকাতার আইসিসিআর এর নন্দলাল বোস গ্যালারিতে, বেঙ্গল ক্রিয়েটিভ ক্লাব আয়োজিত এবং সুরত চক্রবর্তী ও শর্মিষ্ঠার উদ্যোগে, ঠিক বিকেল পাঁচটায়, চারটি ধর্মকে একত্রিত করে এবং তাহাদের উপস্থিতিতে প্রদীপ প্রজ্জলনের মধ্য দিয়ে দেবী অন ক্যানভাস প্রদর্শনী শুভ সূচনা হয়। এই প্রদর্শনী চলবে ২৭ শে মার্চ থেকে ২৯ শে মার্চ পর্যন্ত, সকলের দেখার সুযোগ থাকছে বিকেল তিনটে থেকে রাত্রি আটটা পর্যন্ত,
এই প্রদর্শনীর পথ চলা শুরু হয় ২০০৫ সালে, তাহার পর থেকেই সারা পৃথিবীতে পদর্শনী করে চলেছেন, আজ সেই প্রদর্শনী আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দিয়েছে। তর্ক বিতর্ককে পেছনে ফেলে সামনের লোককে এগিয়ে চলেছেন। কোন বাধাই আটকাতে পারেনি।
আজকের এই প্রদর্শনী শুভ সূচনায় উপস্থিত ছিলেন , প্রায় ৬০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরের সেক্রেটারী ও প্রধান শ্রীযুক্ত পিয়াল অধিকারী।
ফাউন্ডার ও গুড নিউজ মিশন অফ ইন্ডিয়া, পশ্চিমবঙ্গ খ্রিস্টান মাইনোরিটি সেলের কনভেনর বিশপ ড, শ্রীকান্ত দাস।
অল ইন্ডিয়া বৌদ্ধ ধর্মাংকুর সভার অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী বৌদ্ধ ধর্মের ভিক্ষু বিশ্বজিৎ।
অল ইন্ডিয়া টি এম সি মাইনরিটি সেলের সেক্রেটারী মোঃ ইরামুল হক সিদ্দিক।
বিশিষ্ট সাংবাদিক ঋতব্রত ভট্টাচার্য, সুরকার মল্লার ঘোষ , কবি ও অভিনেত্রী মল্লিকা ঘোষ, এছা উপস্থিত ছিলেন শোভাবাজার রাজবাড়ীর সদস্যবৃন্দ ও বিদ্যাসাগরের ঘনিষ্টজন।
প্রদর্শনী শুভ সূচনার পরেই, বিশিষ্ট অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে হাতে একটি করে পুষ্পস্তবক , মিষ্টি ও গ্লোরি অফ বেঙ্গল সম্মান তুলে দিলেন।
এই প্রদর্শনীতে প্রায় একশোটি ছবি প্রদর্শিত হয় এবং ৭৬ জন জুনিয়র সিনিয়র শিল্পী এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন এবং তাহদের ছবি প্রদর্শীত হয়েছে। জানা যায় যে সকল সিনিয়র ও জুনিয়র শিল্পীরা, এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন, তাহাদের কেউ সম্মান ও লাইভ এচিভমেন্ট সহ লাইভ সদস্য দেওয়া হবে। এবং এর সাথে সাথে জানান এই দেবী ফোন ক্যানভাস প্রদর্শনী অন্যান্য জায়গাতেও প্রদর্শীত হবে,
যাহার মধ্য দিয়ে সমাজের মানুষকে সচেতন করা, হিংসা দূর করা, শান্তির বাণী ছড়িয়ে দেওয়া। , দেশে যেভাবে হিংসা বেড়ে চলেছে, নারীদের উপর অত্যাচার বাড়ছে, এই সকলকে দূর করতে দেবী রূপে আবির্ভাব হয়ে হিংসাকে ধ্বংস করবে, সমাজে শান্তির বার্তা বহন করে নিয়ে যাবে।
তাই এবারে প্রদর্শনীর বিশেষ বিশেষ আকর্ষণ, যেমন চারটি ধর্মকে এক করা হয়েছে, তেমনি ১০০ টি ছবিতে দেবীর বিভিন্ন রূপ তুলে ধরা হয়েছে।
মেয়েরাই যে বিভিন্ন রূপী, মেয়ে
রাই যে সর্বশক্তি, মেয়েরা যে পারে সর্বশক্তি দিয়ে , হিংসাকে বিনাশ করতে,সেই সকল রুপ এই প্রদর্শনীতে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে, পেইনন্টিং, ফটোগ্রাফি ও ক্রাপচার এর মধ্য দিয়ে।
এই তিন দিনে উদ্যোক্তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন এবং প্রতিদিন স্বনামধন্য অতিথিরা উপস্থিত হবেন।,
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে যেমন অতিথীরা ধন্যবাদ জানিয়েছেন সুরত চক্রবর্তী ও শর্মিষ্ঠা কে, তাহাদের সাহসিকতা এবং পিছনে ফেলে এগিয়ে চলা।
তেমনি সুরত চক্রবর্তী ও শর্মিষ্ঠা বলেন, আমাদের ৬ মাস ধরে যে প্রচেষ্টা চলছিল আজ আমরা সার্থক, চারটি ধর্মকে একত্রিত করতে পেরে, যেখানে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সনামধন্য অতিথীরা উপস্থিত, যাহারা আজ একত্রিত হয়ে সমাজকে নতুন বার্তা দিলেন। আমরা কৃতজ্ঞ যাহাদের সহযোগিতায় এই প্রদর্শনটি করতে পেরেছি, কৃতজ্ঞ আজকের অনুষ্ঠানে যে সকল অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন এবং দর্শক আসনে যাহারা ছিলেন।। যাহাদের সহযোগিতায় আমাদের এই প্রদর্শনী আন্তর্জাতিক লেভেলে পৌঁছে দিয়েছে।