
প্রখ্যাত বাউলশিল্পী সুনীল কর্মকার আর নেই
আবুল কালাম আজাদ, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি: প্রখ্যাত বাউল ও লোকসংগীতশিল্পী সুনীল কর্মকার (৬৭) আর নেই। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। বেশ কয়েক দিন ধরে তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
ময়মনসিংহ জেলা বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম (আসলাম) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন বাউলসাধক সুনীল কর্মকার। তাঁর মরদেহ নগরীর আঠারোবাড়িতে রাখা হয়েছে। দুপুরে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ময়মনসিংহ টাউন হল মাঠে মরদেহ রাখা হবে। পরে জেলার গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া এলাকায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।
১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বার্নাল গ্রামে দীনেশ কর্মকার ও কমলা কর্মকারের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন সুনীল কর্মকার। মাত্র সাত বছর বয়স থেকেই তিনি গানের সঙ্গে যুক্ত হন। শৈশবে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারালেও সংগীতই হয়ে ওঠে তাঁর জীবন ও সাধনা।
ভরাট ও আবেগময় কণ্ঠে বাউল আসর মাতিয়ে তুলতেন এই শিল্পী। তিনি বেহালা, দোতারা, তবলা ও হারমোনিয়ামসহ একাধিক বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারদর্শী ছিলেন। ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর অসংখ্য গানে তিনি সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁর নিজের লেখা গানের সংখ্যা প্রায় দুই শতাধিক।
বাউল, মালজোড়া, মহাজনি গান ও লোকসংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পকলা পদক লাভ করেন।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, “সুনীল কর্মকার শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি ছিলেন গ্রামবাংলার লোকজ ঐতিহ্যের এক জীবন্ত ধারক। বাউল ও লোকসংগীতের মাধ্যমে তিনি মানুষের হৃদয়ে আধ্যাত্মিক চেতনার বাণী পৌঁছে দিয়েছেন।”
সুনীল কর্মকারের মৃত্যুতে বাউল ও লোকসংগীত অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।