অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনায় উপকৃত হচ্ছে সর্বস্তরের জনগণ
মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:
ভূমিসেবা মেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে 'অটোমেটেড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট: দ্য চেঞ্জেস, ডেভেলপমেন্ট এন্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড' শীর্ষক আজ ২০ মে বুধবার এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ্ শাম্মী, এনডিসি। এছাড়াও ময়মনসিংহ বিভাগীয় সদর দপ্তর স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সাইফুর রহমান, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো: আজাদ জাহান এবং (রাজস্ব) জন কেনেডি জাম্বিল, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক বিপিন চন্দ্র বিশ্বাসসহ ময়মনসিংহ বিভাগীয় পর্যায়ের দপ্তরপ্রধানগণ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, উদ্দোক্তা, শিক্ষার্থী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে তথ্যবহুল মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আজিম উদ্দিন। এতে জানানো হয়, 'স্বয়ংক্রিয় ভূমি ব্যবস্থাপনা: পরিবর্তন, উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পথচলা' এর মূল লক্ষ্য ভূমি সংক্রান্ত সেবাসমূহকে ডিজিটালাইজড ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনায় আওতায় এনে দ্রুত ও সহজে নাগরিকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। এতে সময়, ব্যয়, পরিদর্শন এবং ভুল কমবে। ভূমি মন্ত্রণালয় ল্যান্ড সার্ভিস গেটওয়ে সেবাগুলো সিঙ্গেল উইন্ডোতে নিয়ে আসছে, যা ওয়ান স্টপ সার্ভিস এর মতো। ভূমি সংক্রান্ত হটলাইন ১৬১২২ জনগণের জন্য সবসময়ই উন্মুক্ত। বর্তমানে দেশব্যাপী ১৯-২১মে ভূমিসেবা মেলা-২০২৬ চলমান , অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনায় উপকৃত হচ্ছে সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ ও ভুমির মালিকগণ । ন্যায়ভিত্তিক ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।
সভাপতি বলেন, ভূমি নিয়ে বিতর্ক ও মামলা নেই এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আগে মানুষ অসচেতন ছিল, মালিকানা একক ছিল। সময়ের পরিক্রমায় এখন জমির মালিকানা ব্যক্তি বাড়ছে, কিন্তু নামজারি ও সমস্যা আগের মতোই চলছিল। পারিবারিক অংশীদারত্বে বোনের অংশ এবং বিদেশে কেউ অবস্থান করলে তাদের বঞ্চিত রেখেই পরিবারের লোকজন জমি জরীপ ও রেকর্ড নিজের নামে করে ফেলতো। এসব সমস্যা সমাধানকল্পে সরকার উন্নত, ডিজিটালাইজড ও স্বয়ংক্রিয় ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করেছে, যেখানে ঘরে বসেই নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়া যাবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে তথ্য সংযুক্ত থাকায় মালিকানার দ্বৈততা থাকার সুযোগ নেই। পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পাদিত হওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম থাকবে না। এসব উন্নত ডিজিটাল সেবা সম্পর্কে প্রান্তিক পর্যায়ের জনগোষ্ঠীকে সচেতন করতে হবে। সরকারি দপ্তর এবং প্রশাসনের সকলেই আপনাদের সেবায় নিয়োজিত। আমরা সকলে যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হই, তবে ভূমি ব্যবস্থাপনার মতো জটিল বিষয়গুলো আর জটিল থাকবে না।