ওসমানীনগরে জনবল ও যন্ত্রপাতি সংকটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যা হাসপাতালের অনুমোদন হলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা।
হাবিবুর রহমান বাবুল ওসমানীনগর প্রতিনিধি:
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজারে (নিকার) পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় অনুমোদনের প্রায় তিন বছর অতিবাহিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন সাধারণ মানুষ। অপরদিকে উপজেলার দৃষ্টিনন্দন বহুতল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সামগ্রী ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল ওসমানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও এখনো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, আধুনিক সরঞ্জাম ও জনবল না থাকায় সেবার মান বাড়েনি। এতে উপজেলার প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ প্রত্যাশিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হওয়ায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু চিকিৎসক সংকট, নার্স ও টেকনিশিয়ানের স্বল্পতা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি বিভাগ, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, প্যাথলজি পরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবায় চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ করা হলেও অধিকাংশ বিভাগ এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। অনেক কক্ষ খালি পড়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক কিংবা সিলেট নগরীতে যেতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি সময় নষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকার হাসপাতাল উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং হাসপাতালের সব বিভাগ চালুর দাবি জানান তারা।
এদিকে গোয়ালাবাজারে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় অনুমোদনের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে স্বাস্থ্যখাতে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে না।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা আশা করছেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট দূর করবে।