ইউএনও প্রত্যাহার ও চেয়ারম্যান পুনর্বহালের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভে উত্তাল ওসমানীনগর
ওসমানীনগর (সিলেট) সংবাদদাতা :
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় নির্বাচনী সিসি (ক্যামেরা) প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশাকে প্রত্যাহার এবং তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কবির আহমদের পূর্ণ বহালের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে ইউনিয়নের নাগরিক সেবা ব্যাহত হওয়ায় সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনার হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নেন। পরে রাত ৯টায় তাজপুর বাজারের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে উপজেলার সাংবাদিকদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কবির আহমদ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চেয়ারম্যানের পক্ষে একটি রিট মামলা চলমান থাকা অবস্থায় নির্বাচনী সিসি প্রকল্পে দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ায় ইউএনও মুনমুন নাহার আশার ব্যক্তিগত রোষানলে পড়েন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কবির আহমদ। তাদের দাবি, মাঠ প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন প্রতিহিংসামূলক আচরণ সরকারের প্রশাসনিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং সংসদ সদস্যের উন্নয়ন কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত ইউএনও প্রত্যাহার ও চেয়ারম্যানকে পুনর্বহালের দাবি জানান তারা।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবী ও রাজনীতিবিদ সাইস্তা মিয়া, সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম শফিক, আব্দুস শহীদ, জুনু মিয়া, সিলেট জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের বাস-মিনিবাস সমিতির কার্যকরী কমিটির সভাপতি সাহেব আলী, উপজেলা ট্রাক সমিতির সাবেক সভাপতি সুফি মিয়া, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল মিয়া, তাজপুর বাজারের ব্যবসায়ী শহিদুল আজমসহ আরও অনেকে।
এদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস টি এম ফখর উদ্দিন বলেন, এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ইউএনও উপজেলা বিএনপি কিংবা সংসদ সদস্যকে অবহিত করেননি। তিনি বলেন, যদি আইনগত প্রক্রিয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকে, তবে চেয়ারম্যান আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে বিষয়টি মোকাবিলা করবেন এবং উপজেলা বিএনপি তাকে সহযোগিতা করবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কবির আহমদ নির্বাচনী সিসি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন। এরপর ২ মার্চ ইউএনও মুনমুন নাহার আশা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের কাছে চেয়ারম্যান অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগের সুপারিশ করেন। পরবর্তীতে ৩ এপ্রিল জেলা প্রশাসক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কবির আহমদকে অপসারণ করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম তালুকদারকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেন। এতে উপজেলায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অস্থিরতা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে।
ওসমানীনগর নিউজ
০৭/০৪/২০২৬