জয়পুরহাটের মোলামগাড়ীহাট বাজার ইজারায় অনিয়মের অভিযোগ
মোঃ মাফিজুল ইসলাম জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি, ৬ এপ্রিল: জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মোলামগাড়িহাট বাজার ইজারা প্রদানে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)’র বিরুদ্ধে।
ইজারার শর্ত অনুযায়ী সরকারি কোষাগাড়ে নিধারিত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতাকে সমুদয় অর্থ জমা না দিলেও ইউএনও নিয়ম বহির্ভূতভাবে ইজারা বহাল রেখেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, গত ১৩ জানুয়ারী দরপত্র আহবান করা হয় ও দাপ্তরিক যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত ২৫ ফেব্রুয়ারী দরদাতাগনের উপস্থিতিতে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসাবে (৪৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকাসহ ২৫% ট্যাক্সও ভ্যাট মিলিয়ে সর্বমোট ৫৯ লাখ টাকারও বেশী। ) চুরান্ত হন আনিসুল হক চৌধূরী। তাকে ১২টি শর্ত সাপেক্ষে ইজারা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে দরপত্রের ৪ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ,‘ যার দরপত্র গৃহিত হবে ,দরপত্র সংবাদ অবহিত হওয়ার ৭ কার্য দিবসের মধ্যে একই সঙ্গে ইজারার সমুদয় অর্থ পরিশোধ করতে হবে, তা না হলে ইজারাপ্রাপ্ত ব্যাক্তির জামানত বাজেয়াপ্ত সহ তার ইজারা বাতিল হবে এবং পূন:রায় ইজারা কার্যক্রম গ্রহন করা হবে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে হাটের ইজারা প্রাপ্ত আনিসুল হক চৌধূরী বলেন, এরই মধ্যে অর্থেকেরও বেশী টাকা জমা দিয়ে সময় চেয়েছি। এতে ইজারার ৪ নম্বর শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে কিনা এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে আনিসুল হক চৌধুরী বলেন, ইউএনও স্যার তা অনুমোদন করেছেন। অবশিষ্ট টাকা অল্প সময়ের মধ্যে পরিশোধ করব।
ইজারার শর্ত অনুযায়ী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ইজারার সমুদয় অর্থ পরিশোধ না করায় ইজারাপ্রাপ্ত আনিসুল হক চৌধূরীর ইজারাটি ইরেতমধ্যেই বাতিল হওয়ার কথা ধাকলেও তা না হওয়াই ক্ষুব্ধ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা মোলামগাড়িহাটের বাসিন্দা আব্দুল করিমসহ স্থানীয়রা। আব্দুল করিম ছাড়াও একই এলাকার ফিরোজ আহম্মেদ, রেজ্জাকুল ইসলামসহ এলাকাবাসী জানান, ইউএনও ক্ষমতার অপব্যবহার করে এখনো আনিসুল হক চৌধূরীর ইজারা বাতিল করেননি। তার ইজারা বাতিল না হওয়ায় আজ আদালতে মামলা করেছি বলেও জানান আব্দুল করিমের ভাতিজা সাজ্জাদুল হক।
বাদী পক্ষের আইনজীবী নাফিউজ্জামান তালুকদার ডলার বলেন, সাজ্জাদুল হক বাদী হয়ে জয়পুরহাট যুগ্ন জেলেও দায়রা জোজ আদালতে মামলা করেছেন, আদালত পরবর্তী শুনানের জন্য মামলাটি গ্রহণ করেছেন।
এ ব্যাপারে কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আরা, এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে কোন মন্তব্য করতে রাজি নয়।
জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।