সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট নিয়ে টালবাহান- প্রতিবাদে দেশ বাঁচাও গণমঞ্চর বিক্ষোভ।
রিপোর্টার, সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ: ২৫ শে মার্চ বুধবার, ঠিক দুপুর তিনটায় ধর্মতলা ধর্মতলা ডরিনা ক্রসিং এ , দেশ বাঁচাও গনমঞ্চের আহ্বানে, সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট নিয়ে টালবাহান করা ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে অমান্য করায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সভা।
এই সভা শুরু থেকেই, গানে কবিতায় ও বক্তৃতায় গর্জে উঠে মঞ্চ, বক্তব্যের মধ্য দিয়ে একটি কথাই উঠে আসে, নির্বাচন কমিশন এবং ঞ্জানেশ কুমার কিভাবে বিজেপির হয়ে কাজ করছে, আমরা পরিষ্কার বিজেপি সরকার বাংলায় আসলে কি ঘটবে, আমরা বাংলায় তা হতে দেব না, তাই এই মঞ্চ থেকে আমরা বুঝিয়ে দিতে চাই, বাংলায় বিজেপির ঠাঁই নাই,
দেশ বাঁচাও গণমঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, যাহার উদ্যোগে এই বিক্ষোভ সভা দোলা সেন, অভিনেত্রী সুভদ্রা মুখার্জি, পরিচালক হরণথ চক্রবর্তী, প্রাক্তন মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু, অধ্যাপিকা তনভির নাসির, শিল্পী সৈকত মিত্র, পরিচালক সুদেষ্ণা রায়, সাংবাদিক সুমন ভট্টাচার্য, অভিনেতা অর্ণব সহ বহু শিল্পী অভিনেতা অভিনেত্রী ও কবিরা উপস্থিত ছিলেন।
তাহারা বলেন নির্বাচন কমিশনের সাথে হাত রেখে বিজেপি সরকার যেভাবে সাধারণ মানুষের অধিকার নষ্ট করছে, ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ দিচ্ছেন, শুধু তাই নয় সাধারণ মানুষের পেটে লাথি মারছেন গ্যাসের দাম বাড়িয়ে, গ্যাসের জন্য পরিবার থেকে শুরু করে গাড়িচালক ভাইয়েরা বিপদের সম্মুখীন।
আমরা মনে করি গণতন্ত্রে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ভ্যানিশ কুমার যেভাবে করছেন তাতে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছে, গণতন্ত্র সংবিধান বলে কিছুই নাই, যা খুশি তাই করার এক নায়কী ব্যবস্থা চালানো হচ্ছে রাষ্ট্রপতির নাম করে।
রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পদমর্যাদা আধিকারিকদের আকস্মিকভাবে অন্য রাজ্যের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসাবে পাঠানো হচ্ছে। অতিরিক্ত মাত্রায় এই প্রক্রিয়া শুরু হলে রাজ্যের প্রশাসনিক সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বিভিন্ন জেলায় শয়ে শয়ে ভোটার লিস্ট থেকে নাম ভ্যানিস হয়ে গেছে। এমনকি বি এল এর, এর থেকে বোঝা যায় বাংলা ও বাঙালি কে মাথা নত করানোর একটা অপচেষ্টা। গণতন্ত্রের মূল কাঠামো হত্যা নিরপেক্ষতা স্বায়ত্তশাসন এবং ফেডারেল ভারসাম্যের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে, এতে খাদ্য,বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সবকিছুই মৌলিক অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করার চেষ্টা হচ্ছে,
রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, নির্বাচন ঘোষণার পর অতি অল্প সময়ে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ গুলিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবং অন্য রাজ্যের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক করে পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।। আমরা মনে করি এটি নিছক কোন নির্বাচন সংক্রান্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়।। বরং নির্দিষ্ট লক্ষ্যে একটি প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার ও ক্ষমতা প্রদর্শনের মরিয়া চেষ্টা। হঠাৎ করে বহু গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিককে সরিয়ে দেয়া হল কেন আজও ধোঁয়াশায়। তবে এটা পরিষ্কার প্রধানমন্ত্রীর কথায় ওঠবস করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। যাহার ফলে জনমুখী কাজগুলিকে পঙ্গু করে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। যাহাতে মানুষের অসুবিধে সৃষ্টি করে মোদির পক্ষে নিয়ে আসা যায়।
তাই আমাদের স্পষ্ট মতামত ও দাবী-----
গণতন্ত্র কেবল নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদী প্রতিষ্ঠানিক বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে থাকে, সেই বিশ্বাস যদি ক্ষুন্ন হয়, তবে তার প্রভাব সাময়িক নয়, তা রাষ্ট্রব্যবস্থার গভীরে পথিত হয়।
কেন্দ্র-রাজ্যের মধ্যে সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষার ব্যাপারে অবিলম্বে সংলাপ শুরু করতে হবে।
আধিকারিকদের স্থানান্তরের একটি সুসংহত ও যুক্তিসঙ্গত নীতি অনুসরণ করা হয়েছে কিনা, তা স্পষ্ট করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের সমস্ত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের একটি স্বচ্ছ, লিখিত ব্যাখ্যা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
মঞ্চ থেকে এক বাক্যে ঞ্জ্যানেশ কুমারকে ভ্যানিস কুমার বলে এক্ষা দিলেন, এমনকি তাহার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুললেন, না হলে কিভাবে বিজেপির পতাকা উঠে আসে, পরিষ্কার আমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছেন তিনি বিজেপির দালাল হয়ে কাজ করছেন। প্রশাসনকে ঠুটো করার চেষ্টা করছেন। যতই বাংলায় চালবাজি করুক আমরা হতে দেব না। বাংলায় বিজেপির ঠাঁই হবে না। ২০২৬-এ পুনরায় জবাব দেবে বাংলার মানুষ।