পঞ্চগড়ে ভিজিএফের চাউল বিতরনে অনিয়ম
বঞ্চিতদের বিক্ষোভ
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি খাদেমুল ইসলাম!
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারিভাবে দেয়া ভিজিএফের চাল বিতরণে পঞ্চগড়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কার্ড থাকার পরও চাল না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপকারভোগীরা। এর প্রতিবাদে টানা দুদিন ধরে পৌরসভা প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন শতাধিক নারী-পুরুষ।
পঞ্চগড় পৌরসভায় ভিজিএফের চাল না পেয়ে অবস্থান নিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী-পুরুষরা।
বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল থেকেই চাল না পেয়ে দুপুর পর্যন্ত নির্ধারিত স্থানে জড়ো হন ভুক্তভোগীরা। সরেজমিনে পঞ্চগড় পৌরসভা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উপকারভোগীদের ভিড় থাকলেও পৌরসভায় এক ধরনের সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে এবং সেখানে তালা ঝুলছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে পৌরসভায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তারা চাল পাননি। সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকা এবং তালিকার অসংগতির কারণে অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি তাদের। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা পৌরসভা চত্বরে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় পৌরসভার ইসলামবাগ এলাকার কুদ্দুসি আক্তার ও রামেরডাঙ্গা এলাকার ফাতেমা বেগম বলেন, ‘গতকাল থেকে আমরা পৌরসভায় ঘুরছি। কয়েকজনকে চাল দিয়ে আর দেয়া হচ্ছে না। চাল নিতে এসে আমাদের ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। কিন্তু কার্ড থাকার পরও পৌরসভার কেউ আমাদের চাল দেয়নি। পরিবারের সদস্য ও সন্তানদের নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষায় পৌরসভায় বসে আছি আমরা।’
রামেরডাঙ্গা এলাকার শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার সন্তান মারা গেছে। এতিম নাতি-পুতিদের নিয়ে দিন পার করি। আমাদের ১০ কেজি চাল দেবে বলে একটি কার্ড দিয়েছে। কিন্তু গত দুদিন ধরে সেই কার্ড নিয়ে পৌরসভায় এসেও চাল পাচ্ছি না। আমাদের এই প্রাপ্য চালটা কি আমরা পাব না?’
অভিযোগের বিষয়ে পঞ্চগড় পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুর রহমান বলেন, ‘পঞ্চগড় পৌরসভায় ৪ হাজার ৬২৫ জনের জন্য চাল বরাদ্দ হয়েছে। তার বিপরীতে আমরা চাল বিতরণ করে যাচ্ছি। এর মাঝে অনেকেই চাল পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। যেহেতু তাদের কার্ড রয়েছে, আমরা দ্রুত তাদের চাল দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
গত দুদিন ধরে চাল নিয়ে চলমান এই ভোগান্তির বিষয়ে গত বুধবার ১৮ মার্চ বিকালে যোগাযোগ করলে পঞ্চগড় নবাগত জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভিনের সঙ্গে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।