চট্টগ্রামে মা ও শিশুসন্তানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, হত্যা দাবি পরিবারের
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ঝুলন্ত অবস্থায় সুমি আক্তার (১৯) ও তাঁর দুই বছরের শিশু ওয়াজিহা আক্তারের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় সুমি আক্তারের স্বামী মোহাম্মদ মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
সুমি আক্তার কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের মৃত নুরুল ইসলামের মেয়ে। আর মিজান পটিয়া উপজেলার কৈয়গ্রাম মালিয়ারা এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে।কয়েক বছর থেকে তাঁরা পরিবার নিয়ে গুচ্ছগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করে আসছেন। ঘটনার পর সুমি আক্তারের শাশুড়ি পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্বজনেরা। ঘটনার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
সুমির ভগ্নিপতি মো. এনামুল হক বলেন, ‘তিন বছর আগে সুমির সঙ্গে মিজানের পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। গুচ্ছগ্রামে মা ও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মিজান বসবাস করে আসছেন। তবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় সময় ঝগড়া-বিবাদ হতো। কিছুদিন আগে স্বর্ণ বন্ধক নিয়েও ঝগড়া হয়। বিকেলে আমার শাশুড়িকে ফোন করে জানান সুমি ও তার মেয়ে নাকি আত্মহত্যা করছে। এটা জানার পর আমি ঘটনাস্থলে এসে দেখি ওড়নায়ঝুলছিল মা-মেয়ের লাশ।’
তিনি বলেন, ‘এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনার পর মিজান ও তার মা পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর মিজানকে পাওয়া গেলেও তার মা পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব।’
সুমির মা হোসনে আরা বেগম (৭০) অভিযোগ করে বলেন, ‘বিকেলে মিজান ফোন করে বলতে থাকে, আমার মেয়ে আর নাতনি মারা গেছে। এ সময় আমি আমার মেয়ের কান্নাজড়িত (গলা টিপে ধরার) কণ্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছিলাম মোবাইলে। আমি তাকে বলছি, মোবাইলটা আমার মেয়েকে দেওয়ার জন্য, সে দেয়নি। কিছুক্ষণ পর শুনি দুজনই মারা গেছে। আমার মেয়ে আর নাতনিকে হত্যা করা হয়েছে। আমি তাদের বিচার চাই।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য মুহাম্মদ ইদ্রিছ বলেন, ‘তাঁর স্বামীই আমাকে ফোনে জানান তাঁর স্ত্রী-মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। এটি শোনার পরই আমি ঘটনাস্থলে আসি এবং পুলিশকে জানাই।’
এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মা-মেয়ে দুজনের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিজানকে থানায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশ এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে।’