
সরিষাবাড়ী পৌরসভার কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বকেয়া ৪ কোটির বেশি, তবু নিয়োগ তৎপরতা
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভার কর্মকর্তা–কর্মচারীদের গ্রাচুইটি, আনুতোষিক ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের ৪ কোটির বেশি টাকা বকেয়া থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় বকেয়া নিষ্পত্তির আগেই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সরিষাবাড়ী পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিজা রিছিলের কাছে দেওয়া এক লিখিত আবেদনে পৌরসভার কর আদায়কারী মিয়া হাসান মাসুদসহ ২৩ জন কর্মকর্তা–কর্মচারী তাদের বকেয়া পাওনার বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় তারা আর্থিক অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, সরিষাবাড়ী পৌরসভায় বর্তমানে স্থায়ীভাবে প্রায় ২৩ জন কর্মকর্তা–কর্মচারী কর্মরত আছেন। পৌর পানি সরবরাহ শাখায় স্থায়ী পদে রয়েছেন ২ জন এবং দৈনিক হাজিরাভিত্তিক আরও ৪ জন কর্মরত আছেন। এছাড়া চুক্তিভিত্তিক ২১ জন এবং দৈনিক মজুরিভিত্তিক ২৬ জন সুইপার দায়িত্ব পালন করছেন।
পৌর কর্মচারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত অনেক কর্মকর্তা–কর্মচারীর গ্রাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। এতে তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এ অবস্থায় নতুন নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বিদ্যমান জনবলের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী বলেন, আগে বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা উচিত। তা না করে নতুন নিয়োগ দিলে পৌরসভার ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, কর্মকর্তা–কর্মচারীদের অবসর ভাতা ও আনুতোষিক বকেয়া রয়েছে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৩৩ হাজার ৪৯১ টাকা। এছাড়া সাতজন কর্মচারীর (অবসরপ্রাপ্ত ও মৃত) বকেয়া রয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ১২ হাজার ৩৬৩ টাকা। আনুতোষিক তহবিলে বকেয়া রয়েছে ২ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মোট বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭৭ টাকা।
অপরদিকে, বিউবো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরিষাবাড়ী পৌরসভার কাছে প্রায় দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, গত ১২ ফেব্রুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সহকারী কর আদায়কারী পদে দুইজন, বিল ক্লার্ক পদে একজন এবং পাম্পচালক পদে একজন—মোট চারজন নতুন কর্মচারী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান আর্থিক দায় নিষ্পত্তির আগেই এ উদ্যোগ প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী, কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন–ভাতা, গ্রাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ড সংরক্ষণ ও সময়মতো পরিশোধ করা পৌর কর্তৃপক্ষের বাধ্যবাধকতা। পাশাপাশি নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতা, অনুমোদিত জনবল কাঠামো ও প্রশাসনিক অনুমতি অনুসরণ করা আবশ্যক।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিজা রিছিল বলেন, “পৌরসভার সাতজন কর্মচারী অবসর গ্রহণ বা মৃত্যুবরণ করায় জনবল সংকট তৈরি হয়েছে। সে কারণে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বকেয়া গ্রাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিশোধের দাবিতে কর্মকর্তা–কর্মচারীরা একটি লিখিত আবেদন দিয়েছেন। বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।