
দৌলতপুরে ঐক্যের শক্তিতেই বিএনপির একমাত্র জয়।
স্টাফ রিপোর্টার কুষ্টিয়া।কুষ্টিয়ার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতে ভরাডুবি হলেও কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে বিজয়ের ধারা ধরে রেখেছে বিএনপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের অভিমত—দলের ভেতরের বিভক্তি নয়, বরং শরীফ উদ্দিন জুয়েল, আলহাজ্ব রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লার ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই এই জয় নিশ্চিত করেছেন।
দৌলতপুর উপজেলার মোট ভোটার ৪ লাখ ৯০ হাজার ৯ জন; জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। দীর্ঘদিন ধরেই আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলীয় কমিটি গঠন ও মনোনয়নকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপিতে তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। সেই বিভক্তির প্রভাব জেলার অন্যান্য তিনটি আসনে স্পষ্টভাবে পড়লেও দৌলতপুরে তার ব্যতিক্রম ঘটেছে।
এই আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লা এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দিন জুয়েল। শেষ পর্যন্ত দল রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লাকে মনোনয়ন দিলে শরীফ উদ্দিন জুয়েল দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তার অনুগত নেতা কর্মীদের ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান,
স্থানীয়দের মতে, এই সমঝোতা ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রচারণাই ছিল বিজয়ের মূল চাবিকাঠি। তাদের ভাষায়, “বিভক্ত বিএনপি নয়—ঐক্যবদ্ধ বিএনপিই দৌলতপুরে জয় ছিনিয়ে এনেছে।”
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, স্বাধীনতার পর থেকে দৌলতপুরে জামায়াতে ইসলামী কখনো ১০ হাজারের বেশি ভোট পায়নি। কিন্তু এবারের নির্বাচনে দলটি ৮৫ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বার্তা দিয়েছে। তবুও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও আসনটি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বিএনপি।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার বলেন, “জেলা কমিটি গঠন নিয়ে যে অন্তর্দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল, তা নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে দৌলতপুরে নেতাদের ঐক্যই ফলাফল ঘুরিয়ে দিয়েছে।
এ ব্যাপারে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, দলমত নির্বিশেষে দৌলতপুরবাসী আমাকে যে আস্থা দিয়েছেন, তা আমি উন্নয়ন ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে প্রতিদান দিতে চাই।
এ ব্যাপারে, মোঃ শরীফ উদ্দিন জুয়েল বলেন, দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। নেতাকর্মীদের নিয়ে আমরা ধানের শীষের পক্ষে সর্বোচ্চ পরিশ্রম করেছি। ঐক্যই আমাদের শক্তি, আর সেই শক্তিতেই বিজয় নিশ্চিত হয়েছে। ইনশাআল্লাহ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ দৌলতপুর গড়ে তুলব।
আবিদ হাসান মন্টি সরকার বলেন, ব্যক্তিগত মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছি। এই আসনটি দলকে উপহার দিতে পেরে আমরা কৃতজ্ঞ।
এ ব্যাপারে, দৌলতপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুজ্জামান মুন্তাজ মাষ্টার বলেন, দৌলতপুরে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক দৌলতপুরের কৃতি সন্তান মোঃ শরিফ উদ্দিন জুয়েলের নেতৃত্বে নমিনেশন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি, দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে মোঃ শরিফ উদ্দিন জুয়েল ভাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান, আমরা নির্দেশনা মোতাবেক ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করে আলহাজ্ব রেজা আহাম্মদ বাচ্চু মোল্লাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে , জনাব, তারেক রহমানকে এই আসনটি উপহার দিতে পেরেছি ইনশাআল্লাহ, দৌলতপুরের সার্বিক উন্নয়ন ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবো।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কুষ্টিয়ার সার্বিক প্রেক্ষাপটে দৌলতপুরের ফলাফল একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে—দলীয় ঐক্য থাকলে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও জয় সম্ভব।