তেঁতুলিয়ায় ফুটেছে টিউলিপ, রঙিন বাগানে দর্শনার্থীর ভিড়
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি! খাদেমুল ইসলাম সর্বউত্তরের সীমান্ত উপজেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার পঞ্চমবারের মতো ফুটতে শুরু করেছে রাজসিক সৌন্দর্যের ফুল টিউলিপ।
দর্জিপাড়া এলাকায় শোভা পাচ্ছে ভিনদেশি ‘টিউলিপ’ ফুলের বাগান। বাগানে ফুটেছে বাহারি ফুল। বেসরকারি একটি উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) অর্থায়নে নারী উদ্যোক্তা
পঞ্চমবারের মতো জমিতে চাষ করেছেন ভিনদেশি এ ফুল। তেঁতুলিয়ার টিউলিপ বাগানকে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
টিউলিপ চাষি নারী উদ্যোক্তারা জানান, সাধারণত নেদারল্যান্ডস, কাশ্মীর, তুরস্কের মতো শীতপ্রধান দেশে চাষ হয় টিউলিপ ফুল। তেঁতুলিয়ার আবহাওয়া এ ফুল চাষের জন্য উপযোগী।গত ৫ বছর থেকেই এখানে টিউলিপ চাষ করে সাফল্য পাওয়া গেছে। এবার জানুয়ারির ১০ তারিখে তেঁতুলিয়ার দর্জিপাড়ায় বপন করা হয় নেদারল্যান্ডসের টিউলিপ বীজ। ২০-২৫ দিনেই চারা গজিয়ে একাধিক বাগানে টিউলিপ ফুল ফুটেছে। এবার ১৯ প্রজাতির টিউলিপের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টার্কটিকা, ডেনমার্ক, লালিবেলা, ডাচ সূর্যোদয়, স্ট্রং গোল্ড, জান্টুপিঙ্ক, হোয়াইট মার্ভেল, মিস্টিক ভ্যান ইজক, হ্যাপি জেনারেশন এবং গোল্ডেন টিকিট।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দর্জিপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আশপাশের এলাকাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তেঁতুলিয়া মহানন্দার পাড়ে বনভোজনে আসা পর্যটকরা এসেছেন টিউলিপ ফুল দেখতে। এদের অনেকে মোবাইলে ছবি তুলছেন। কেউ কেউ টিউলিপ বাগান থেকে ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে টিউলিপ ফুল সংগ্রহ করছেন।
উদ্যোক্তা মোছাঃ রইসুন আক্তার বলেন, ‘প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০টি ফুল বিক্রি হচ্ছে। গত তিন মৌসুম শেষে প্রত্যেক উদ্যোক্তা ৪০-৫০ হাজার টাকা করে পেয়েছি। এবারও আশা করছি লাভবান হবো। লাভের টাকা দিয়ে আমাদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে। আমি স্বাবলম্বী হয়েছি। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাতে পারছি।’
তেতুলিয়া কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ জীবন ইসলাম বলেন, তেতুলিয়া টিউলিপ ফুল এতো সুন্দর হয়, বাস্তবে না দেখলে বোঝা যাবে না। আমরা তাদের সঠিক পরামর্শ দিয়ে আসছি।
ইএসডিওর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ শহীদ উজ জামান বলেন, পঞ্চমবারের মতো তেঁতুলিয়ায় নারী উদ্যোক্তারা টিউলিপ চাষ করেছেন। গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার পাশাপাশি তেঁতুলিয়াকে ইকোট্যুরিজমে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। প্রকল্পটি লাভের মুখ না দেখলেও পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে। তারা মুগ্ধ হচ্ছেন, এটাই আমাদের স্বার্থকতা।’
তেতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজ শাহিন খসরু বলেন তেতুলিয়া শীতের শেষের দিকে এখানে বেসরকারি একটি উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে টিউলিপ ফুল চাষ করা হচ্ছে। ভিনদেশি এবং বাহারি রঙের এ টিউলিপ বাগান এখন সম্ভাবনাময় তেঁতুলিয়ার পর্যটনে নতুন সংযোগ বলে মনে করা হচ্ছে।