
ওসমানীনগরে খননের অভাবে পানিশূন্য হাওর, নদী ও খাল
ওসমানীনগর (সিলেট) সংবাদদাতা: ওসমানীনগর উপজেলা-এ বোরো মৌসুমে চারা রোপণ শেষ হওয়ার পর হাওর, নদী ও খাল পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। চাষাবাদ সম্পন্ন হলেও সেচের পানির অভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। খরতাপের প্রভাবে বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল এখন যেন ধু-ধু মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। মাঠের পর মাঠ ফেটে গেছে, খাল-বিলের তলদেশে দেখা দিয়েছে চৌচির দাগ।
নিয়মিত খননের অভাবে প্রতিবছরই শুকনো মৌসুমে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে পানিশূন্যতা কৃষকদের জন্য চরম দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। যেখানে এই সময় পানির ঢেউ থাকার কথা, সেখানে উড়ছে ধুলোবালি। সেচের সংকটে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে মাছ ধরার নৌকা ও দেশীয় প্রজাতির মাছও প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।
সমস্যা আরও জটিল হয়ে ওঠে অল্প বৃষ্টিতেই। নদী ও খাল নিয়মিত খনন না করায় পানি নিষ্কাশনের পথ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই দেখা দেয় জলাবদ্ধতা, তলিয়ে যায় ঘরবাড়ি—দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। কৃষক, মৎস্যজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
উপজেলার হাওর ও নদীঘেঁষা বিভিন্ন বাজারের পাশে—পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার, বুরুঙ্গা ইউনিয়নের বুরুঙ্গা বাজার ও জামতলা বাজার, উছমানপুর ইউনিয়নের মাদার বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য স্থায়ী ও অস্থায়ী অবৈধ দোকানপাট ও মার্কেট। খাল-নদীর পাড় দখল হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। দেখার যেন কেউ নেই।
বর্ষা মৌসুম চলমান থাকলেও হাওর-বিল ও নদীগুলো শুকিয়ে গিয়ে চারপাশে সৃষ্টি হয়েছে এক ধূসর প্রান্তর। ওসমানীনগরের বিশাল হাওরাঞ্চলের বানাইয়া, মোক্তারপুর, নিরাইয়া, কালাসাড়া, রউনিয়া, লেংরা, যুগনীগড়সহ বিভিন্ন এলাকা পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। নাটকিলা নদী, বুড়ি নদী, কেওয়ালী খাল, দাসপাড়া খালসহ অসংখ্য ছোট-বড় খাল ও জলাশয়ের অবস্থাও একই রকম।
পানির অভাবে দেশীয় মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি পানসী নৌকাসহ কৃষক ও জেলেদের ব্যবহৃত বিভিন্ন নৌযান এখন আর চোখে পড়ে না।
উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা উম্মে তামিমা বলেন, প্রাচীন খাল ও নদীগুলো ভরাট হয়ে গেছে। দ্রুত খনন কার্যক্রম শুরু না করলে ভবিষ্যতে কৃষকরা সেচের পানির অভাবে কাঙ্ক্ষিত ফলন থেকে বঞ্চিত হবেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, পরিকল্পিতভাবে নদী, খাল ও বিল খনন করা হলে মাছের আবাসস্থল তৈরি হবে এবং প্রজনন বৃদ্ধি পাবে। এতে পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মৎস্য উৎপাদনও বাড়বে।
কৃষক আবুল মিয়া বলেন, নিরাইয়া হাওরের জমিতে সেচের অভাবে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গৃহপালিত গরু-ছাগল মাঠে চরাতে পারছেন না। খরার কারণে গোখাদ্যেরও সংকট তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এ সংকট থেকে উত্তরণে জরুরি ভিত্তিতে হাওর, নদী ও খালের পূর্ণাঙ্গ জরিপ ও নিয়মিত খননের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে প্রতিবছর খরতাপে পানিশূন্যতা ও সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার এই দুষ্টচক্র থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
১৪/০২/২০২৬