
অভয়ার ৩৩ তম জন্মদিনে, বিচারহীন ১৮ মাস কে সামনে রেখে প্রতিবাদের ঝড়।
রিপোর্টার , সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ : আজ ৯ই ফেব্রুয়ারি সোমবার, ঠিক দুপুর আড়াই টায়, ধর্মতলা মেট্রো চ্যানেলের সামনে, ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টর ফ্রন্টের আহবানে , অভয়ার ৩৩ তম জন্মদিনে এবং বিচারহীন ১৮ মাসকে সামনে রেখে, ন্যায় বিচারের দাবী নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় তুললেন এবং কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতিকে স্মারকলিপি দিলেন।
আজ অভয়ার জন্মদিনে, নাটাগরে অভয়ার বাড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন মোড়ে ,এমনকি আর জি কর হাসপাতালে, প্রতিবাদের ঝড়ে গর্জে উঠলেন, তাহার সাথে সাথে মশাল মিছিল। একটাই দাবী ও প্রতিবাদ যতদিন না অভয়ার সঠিক বিচার হচ্ছে, দোষীদের শাস্তি হচ্ছে , আমরা ১ ইঞ্চি জায়গা ছাড়বো না, ন্যায় বিচার আদায় করেই ছাড়বো, পশ্চিম বাংলায় দ্বিতীয় বার কোন মেয়ের এইভাবে প্রাণ না যায়। সবাইকে আবার একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান,
উপস্থিত ছিলেন ডক্টরস দেবাশীষ হালদার, অম্বিকা মহাপাত্র সহ মা ও বাবা অন্যান্য ডক্টর থেকে শুরু করে অভয়া মঞ্চের নাগরিকরা। এছাড়াও যারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, যাহাদেরকে বারবার পুলিশ ডেকে হেনস্তা করছেন, তাহাদের মধ্যে পূন্যব্রত গুণ, মনীষা আদক, তমোনাস চৌধুরী লড়াই চালিয়ে চলেছেন।
তাহারা বলেন যেভাবে একজন চিকিৎসককে মারা হয়েছে, সারা রাজ্যকে চিকিৎসা জগতে নাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিবাদে প্রতিরোধে জ্বলে উঠেছে সমগ্র দুনিয়া, কিন্তু এত বড় ঘটনার পরেও কোনরকম বিচার সঠিকভাবে হলো না, দুষ্কৃতীদের আড়াল করে রেখেছে, আর যারা এই নাগ পরিচালক ঘটনাকেই ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছেন তাদের প্রমোশন হয়েছে।, এর থেকে আমরা বুঝতে পারি দেশে যারা নক কর জনক ঘটনা ঘটাবে, তাদের পথ বাড়বে প্রমোশন হবে, অভয়ার ঘটনার পরেও বেশ কয়েকটি ঘটনাও উল্লেখ করেন, দুর্গাপুরে বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ছাত্রী ধর্ষিতা হয়, দত্তপুকুর এ মুক ও বধির মানসিক প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ করেন, পার্ক স্টিটের ঘটনাও মনে করিয়ে দেয়, অথচ মুখ্যমন্ত্রী দোষীদের সঠিক বিচার না দিয়ে,তিনি নিদান দেন মেয়েরা রাতে বেরোতে পারবে না, কাজ করতে পারবে না। মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের কথায় ধর্ষকরা ও দুষ্কৃতীরা উৎসাহিত হয়ে একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। কোনটারই সঠিক বিচার হয়নি এবং দোষীরা শাস্তি পায়নি। ওনায়াসে আসে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আঠারো মাসেও প্রকৃত দোষীদের দিতে পারল না। তাই আজ ৩৩ তম জন্মদিনে, সঠিক ও ন্যায় বিচারের দাবী নিয়ে আজ আমরা পথে ।
আজকের প্রতিবাদ মঞ্চে উপস্থিত অভয়ার বাবা-মা কিছু কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন, তারা বলেন আমার মেয়ের দুটো জন্মদিন করতে পারলাম না, আজকের দিনে থাকলে আমি মেয়ের জন্মদিন পালন করতাম, আমি বহু কষ্ট করে মেয়েকে পড়াশোনা করিয়েছি,সব বাবা মা চাই মেয়ে প্রতিষ্ঠা হোক, কিন্তু পশুরা ও ধর্ষকেরা আমার মেয়েকে দাঁড়াতে দিল না , চিরদিনের জন্য আমার কোল থেকে মেয়েকে কেড়ে নিল, শুধু তাই নয় , আমার মেয়েকে দেখতে পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। ঘন্টার পর ঘন্টা আমাদেরকে আটকে রেখেছিল, তাদেরকে টাকার লোভ দেখিয়েছিলেন, এই টাকা কোথা থেকে আসলো আমরা নিজেরাও বুঝতে পারিনি কে পাঠিয়েছিল, আমরা কি টাকা চেয়েছি, কারণ আমার মেয়ের সমস্ত কিছুকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, আমরা সেটা হতে দিইনি, আমরা ন্যায্য বিচার চেয়েছি, আর আমরা যেভাবে সবার ভালোবাসা পেয়েছি, কিভাবে আমাদের পাশে সবাই রয়েছে, আমরা ন্যায্য বিচার আদায় করেই ছাড়বো, শুধু একটা কথা বলব, কোন কিছুর লোভে যেন নিজেদেরকে বিক্রি করে না দেন, হয়তো একদিন আমার মেয়ের মতো আরো কাউকে ধর্ষকরা দিনের জন্য শেষ করে দেবে, ১৮ মাস ধরে আমরা যেভাবে কোটে কোটে ন্যায় বিচার চেয়ে ঘুরে চলেছি, একদিন হয়তো সবার ভালোবাসায় ন্যায় বিচার ঠিক পাবো, দোষীরা শাস্তি পাবে, মাই সুন্দর গড়ে উঠবে, কোনদিনও কেউ সাহস পাবে না আমার মেয়ের মত কাউকে কেড়ে নিতে, তাই আপনাদের কাছে করজোড়ে একটাই কথা বলবো, আপনারা কেউ হাল ছাড়বেন না, গর্জে উঠুন, রাস্তায় থাকুন, জয় অনিবার্য, একদিন দেখবেন আপনাদের মেয়েরা সুরক্ষিত থাকবে। যাহা আজ সুরক্ষিত নয়, আমার মেয়ে চলে গেছে কিন্তু হাজারো মেয়ে আমার পাশে আছে। সকলকে আমার মেয়ের তরফ থেকে , মেয়ের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাই। যেভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সমস্ত কিছুকে ধ্বংস করে ফেলেছে, গুন্ডা মস্তান রাজের রাজত্ব চলছে। সকল বাবা-মা ভয়ে দিন গুনছেন, সঠিক অপরাধীরা শাস্তি না পাওয়াই। একজনকে শাস্তি দিয়ে আসল অপরাধীদের আড়াল করে রেখেছেন।