
“হেফাজত ইসলাম এর কথিত আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাওয়ার মতো কর্মকান্ডের কারণে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন” বলে মন্তব্য করেছেন গণমাধ্যম বিশ্লেষক ওমায়ের আহমেদ শাওন।
বিশেষ প্রতিনিধি: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের বর্তমান নেতৃত্ব এবং কওমি অঙ্গনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে গণমাধ্যম বিশ্লেষক ওমায়ের আহমেদ শাওনের সাম্প্রতিক মন্তব্যটি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে হেফাজতের বর্তমান আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীকে নিয়ে তার “বিকারগ্রস্ত” হওয়ার দাবিটি একটি চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
বাংলাদেশি কওমি মাদরাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম গত কয়েক বছরে নানামুখী চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গেছে। আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যু এবং পরবর্তীতে জুনায়েদ বাবুনগরীর আকস্মিক প্রয়াণের পর মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী আমিরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে তার এই দায়িত্বকাল শুরু থেকেই বিভিন্ন বিতর্কে ঘেরা।
গণমাধ্যম বিশ্লেষক ওমায়ের আহমেদ শাওন তার পর্যবেক্ষণে দাবি করেছেন যে, মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী এমন কিছু কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছেন যা ইসলামি শরিয়তের মাপকাঠিতে প্রশ্নবিদ্ধ। তার মতে,
ক) আকিদাগত বিচ্যুতি: শাওন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি বা বিশেষ কোনো মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী ধর্মীয় মৌলিক অবস্থানের সাথে আপস করছেন।
খ) মানসিক ও নীতিগত অস্থিরতা: “বিকারগ্রস্ত” শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, নেতৃত্বের সঠিক দিশা হারিয়ে বর্তমান আমির অসংলগ্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে সংগঠনটিকে দেউলিয়া করে দিচ্ছে।
গ) ইসলাম থেকে খারিজ হওয়ার দাবি: এটি একটি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ। সাধারণত ইসলামি পরিভাষায় এমন মন্তব্য তখনই করা হয় যখন কেউ ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস (আকিদা) পরিপন্থী কোনো কাজ করেন। শাওনের দাবি অনুযায়ী, বাবুনগরীর বর্তমান অবস্থান তাকে নৈতিক ও ধর্মীয়ভাবে সংকটে ফেলেছে।
ঘ) বয়সের ভারে প্রলাপ: মুহিবুল্লাহ’র বার্ধক্যজনিত কারণে ভীমরতিতে আসক্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। শাওন মনে করেন, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে অনেকে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। সেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কিন্তু মুহিবুল্লাহ সেটি করছেন না।
ঙ) পারিবারিক প্রভাব: জুনায়েদ বাবুনগরীর উত্তরসূরি হিসেবে মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর অভিষেককে অনেকেই “পরিবারতন্ত্র” হিসেবে দেখছেন, যা হেফাজতের মতো একটি অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠনের জন্য নজিরবিহীন।
ওমায়ের আহমেদ শাওন এর এই মন্তব্যকে কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে দেখার সুযোগ কম। এটি মূলত হেফাজতের বর্তমান স্থবিরতা এবং আদর্শিক বিচ্যুতির একটি বহিঃপ্রকাশ। আল্লামা শফীর আমলের সেই দাপুটে হেফাজত এখন অনেকটা খণ্ড-বিখণ্ড। মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর নেতৃত্ব যদি সত্যিই “বিকারগ্রস্ত” হয়ে থাকে, তবে তা বাংলাদেশের কওমি ঘরানার বিশাল ছাত্র ও শিক্ষক সমাজের জন্য এক অশনি সংকেত।
কোনো ধর্মীয় নেতার বিরুদ্ধে ‘ইসলাম থেকে খারিজ’ হওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা কেবল সাহসের বিষয় নয়, বরং এটি গভীর কোনো তথ্যগত প্রমাণের দিকেও ইঙ্গিত করতে পারে। ওমায়ের আহমেদ শাওনের এই বক্তব্য যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে হেফাজত ইসলামের অস্তিত্ব রক্ষা করাই কঠিন হয়ে পড়বে।