গুদামে আগুন লেগে ১৯ জনের মৃত্যুর প্রতিবাদে, বিক্ষোভ ও দমকল মন্ত্রী সুজিত বোসের পুষ্পুতুল দাহ।
রিপোর্টার, সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ : আজ ২৯ শে জানুয়ারি বৃহস্পতিবার, ঠিক বিকাল তিনটায়, পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ যুব কংগ্রেসের আহবানে, এবং রাজ্য যুব কংগ্রেস নেত্রী শাহিনা জাভেদের নেতৃত্বে, কলকাতা সংলগ্ন আনন্দপুরের কাছে নাজিরাবাদে জোড়া গুদামে আগুন লেগে ১৯ জনের মৃত্যুর প্রতিবাদে , ধর্মতলা কে সি দাসের সামনে বিক্ষোভ অবরোধ ও মন্ত্রী সুজিত বোসের কুশপুতুল দাহ করলেন।
৪০ থেকে ৫০ জন কংগ্রেস কর্মী কলকাতা স্টেটসম্যান হাউসের সামনে জমায়েত হয়ে, এবং সেখান থেকে মিছিল করে পোস্টার হাতে বিক্ষোভ দেখাতে দেখাতে এসি দাসের সামনে এসে উপস্থিত হন এবং রাস্তা অবরোধ করে দমকল মন্ত্রী সুজিত বোসের কুশপুতুল দাহ করলেন , এবং তার সাথে সাথে তৃণমূল সরকারকে তিরস্কার ও ধিক্কার জানালেন।
উপস্থিত ছিলেন রাজ্য যুব কংগ্রেসের নেত্রী শাহিনা জাভেদ, সুমন পাল ,সৌম্য আইচ, সমীর আলম, রমেশ গুপ্তা সহ অন্যান্যরা।
তাহাদের দাবি অবিলম্বে এলাকার কাউন্সিলর ও পৌরসভার অফিসার ও বিধায়ককে গ্রেপ্তার করতে হবে তার সাথে সাথে দমকল মন্ত্রী সুজিত বোসকে পদত্যাগ করতে হবে। কেন এতজনের মৃত্যু ঘটলো, কেন ফায়ার সিস্টেম ছিল না, কিভাবে এই দুটো গুদাম চলছিল তাহার সমস্ত জবাব দিতে হবে।
ভয়ংকর অগ্নিকাণ্ডে 19 জনের মৃত্যু হয়েছে, আরো কিছু নিখোঁজ, তাহাদের পরিবার দিশেহারা, তারা আর্তনাদ করছে, অথচ রাজ্য সরকার দায়সারা কাজ করে চুপ করে আছেন।, তৃণমূলের এই অত্যাচার অনাচার আমরা মেনে নেব না, শুধু টাকা ইনকাম করার রাস্তা তৈরি করেন, এতগুলো মানুষের যে প্রাণ গেল তার কোন ভ্রুক্ষেপ নাই, যাদের পরিবার এদের উপর ভরসা করে সংসার প্রতিপালন করতেন তাদের কি হবে, যাদের ছেলে হারিয়ে গেল চির দিনের জন্য তার বাবা মায়ের কি হবে, তার স্বামী মারা গেল তাদের কি হবে, অথচ রাজ্য সরকার এত কিছু ঘটার পরেও বেআইনিভাবে সমস্ত কিছু দিয়ে চলেছেন, আর আমরা বরদাস্ত করবো না, অবিলম্বে দোষীদের শাস্তি চাই ,দমকল মন্ত্রী সুজিত বোসকে পদত্যাগ করতে হবে। আমরা সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে রয়েছি, আজও আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছি। আর তৃণমূলের মন্ত্রীরা দায়বদ্ধতা সরিয়ে রেখে নির্লজ্জের মত একে অপরের উপর দোষ চাপাতে ব্যস্ত।
জলা জমি ভরাট, অবৈধ নির্মাণ, বেআইনি কারখানা তৈরি লাইসেন্স, বেআইনি ট্রেড লাইসেন্স, বেআইনি ফায়ার লাইসেন্স, অবৈধ বহুতল নির্মাণ থেকে শুরু করে তো কিছু টাকার বিনিময়ে অনুবাদন দিয়ে যাচ্ছে, টাকা ছাড়া কিছু বোঝেনা, যাহার ফলে একের পর এক অগ্নিকাণ্ড ঘটে চলেছে এবং সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, আর রাজ্য সরকার বসে বসে ফায়দা লুটছেন, লজ্জাহীনের মতো চুপ করে রয়েছেন,
আমাদের ধারণা মৃতের সংখ্যা ১৯ আহত, ১৫ হলেও ,আরো কিছু মৃতের হদিশ মিলবে বলে মনে করছি। পেটের জ্বালায় কাজ করতে গিয়ে এতগুলি মানুষের প্রাণ গেল অগ্নিকাণ্ডে।