ওসমানীনগরে ফসলি জমির মাটি কেটে পরিবেশ ধ্বংস, প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে ক্ষোভ
ওসমানীনগর (সিলেট) সংবাদদাতা:
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার একাধিক ইউনিয়নে এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে অবৈধভাবে ফসলি কৃষি জমি ও হাওর থেকে মাটি কেটে নেওয়ায় পরিবেশ ও কৃষি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। প্রভাবশালী একটি মহল দিনের পর দিন এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন চলছে।
উমরপুর ইউনিয়নের ছানাওর আলী খাদিমপুর হাওর, বুরুঙ্গা ইউনিয়নের শিপন আহমদ কালাসাড়া হাওর,তাজপুর ইউনিয়নের লাল মিয়া আমিনপুর হাওর, পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের দুলাল মিয়া ইশাগ্রাই হাওর,ওসমানপুর ইউনিয়নের হিরো মিয়া রউয়ার হাওর,সাদীপুর ইউনিয়নের তায়েফ মিয়া বানাইয়া হাওর এবং উসমানপুর ইউনিয়নের সবুজ মিয়া মাধবপুর হাওর থেকে
ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নিচ্ছেন। এতে ফসলি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, জমি গভীর গর্তে পরিণত হওয়ায় ধানসহ কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্তে পানি জমে আশপাশের জমি ডুবে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। স্থানীয় কৃষক আব্দুল মালিক বলেন, আমাদের চাষের জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়ার কারণে জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এখানে আর ধান ফলানো যাবে কি না, সেই দুশ্চিন্তায় আছি। একই এলাকার আরেক কৃষক রফিক মিয়া বলেন, প্রভাবশালীরা ভেকু দিয়ে দিনে-রাতে মাটি কাটছে। আমরা বাধা দিলে হুমকি দেয়। প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে। আইন অনুযায়ী, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুসারে সরকারি অনুমতি ছাড়া ফসলি জমি, হাওর বা জলাশয় থেকে মাটি উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। এ আইনে অবৈধ মাটি উত্তোলনের দায়ে ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী পরিবেশের ক্ষতি সাধনকারী যেকোনো কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন,
ফসলি জমি ও হাওর থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়টি খোজ নিয়ে দেখব এবং অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কৃষি জমি ও হাওর থেকে অনুমতি ছাড়া মাটি উত্তোলন পরিবেশ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। লিখিত অভিযোগ পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ভেকু জব্দ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করা হলে ওসমানীনগরের কৃষি ও পরিবেশ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে
১৯/০১/২০২৬