নড়াইল জেলায় দিনদিন বাড়ছে অবৈধ ইট ভাটার সংখ্যা
ইমাদুল ইসলাম, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:
নড়াইলে দিনদিন বাড়ছে অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা। জেলায় গড়ে ওঠা এসব বৈধ-অবৈধ দেড় শতাধিক ইটভাটায় অবাধে পুড়ানো হচ্ছে ফসলি জমির উর্বর মাটি। এতে অস্বাভাবিকভাবে কমছে কৃষিজমির পরিমাণ। ইট বানাতে খনিজ কয়লা ব্যবহারে সরকারি বাধ্যবাধকতা থাকলেও পোড়ানো হচ্ছে গাছ।
এছাড়া মাটি আনা নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টরের চাকায় লণ্ডভণ্ড হয়ে যাচ্ছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তৈরি করা গ্রামীণ সড়ক। ইটভাটার ধোঁয়ায় ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ।
ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৯ থেকে জানা যায়, ফসলি জমিতে কোনো ইটভাটা তৈরি করা যাবে না। এলজিইডির রাস্তা ব্যবহার করা যাবে না। কাঠ পোড়ানো যাবে না। লাইসেন্স পাওয়ার আবেদনের সঙ্গে ইট প্রস্তুতের মাটির উৎস উল্লেখ করে হলফনামা বাধ্যতামূলক দাখিল করতে হবে। নির্ধারিত মানমাত্রার অতিরিক্ত সালফার, অ্যাশ, মারকারি বা অনুরূপ উপাদান সম্বলিত কয়লা জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না। এ আইন অমান্যকারীদের ২ বছরের কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
‘ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন মানছেন না ভাটার মালিকরা। এসব ভাটার মালিকরা তথ্য গোপন করে আধুনিক পদ্ধতিতে ইট উৎপাদনের অনুমোদন নিলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করছেন তারা। মাঝে মধ্যে অবৈধ ইট-ভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানা আদায় করলেও থামানো যাচ্ছেনা ভাটা মালিকদের কার্যক্রম।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইটভাটার কারিগরদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি কাঁচা ইট তৈরিতে মাটি লাগে ০.০৮৫ ঘনফুট। প্রতি বছরের অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিটি ভাটায় কমপক্ষে গড়ে ৮ রাউন্ড ইট পোড়ানো হয়। প্রতি রাউন্ডে ১০ লাখ ইট থাকে। একটি ভাটায় বছরে কমপক্ষে ৮০ লাখ ইট পোড়ানো হয়।
এছাড়া ইটভাটা স্থাপনে অনুমোদিত জমি ৩ একর হলেও ভাটার মালিকরা ব্যবহার করছেন কমপক্ষে ৯-১০ একর। সে হিসেবে ইটভাটার নিচে চলে গেছে প্রায় দেড় হাজার একর জমি।
ইটভাটার ক্ষতিকর ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টসহ জটিল রোগে ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও গাছের ফল ফলাদির উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এই উপজেলায় নষ্ট হচ্ছে প্রায় একশ কিলোমিটার গ্রামীন সড়ক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিদর্শন না করেই ছাড়পত্র দিচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তর, তিন ফসলি জমিকে অনাবাধি দেখিয়ে ছাড়পত্র দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। ‘কিছু ইটেরভাটা পরিবেশ ছাড়পত্র, কৃষি বিভাগের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র, বিএসটিআই ইত্যাদির অনুমোদন কাগজে বৈধ। অথচ বৈধ ও অবৈধ সবারই ইট তৈরি প্রক্রিয়া, ভাটা স্থাপন এলাকা, জ্বালানি ব্যবহার, মাটি সংগ্রহ প্রক্রিয়া সবই অবৈধ।’