আশুলিয়ায় কোরিয়ান এমডির হাতে নারী শ্রমিক মারধরের অভিযোগ
সিনিয়র রিপোর্টার,মোঃ আসিফুজ্জামান আসিফ: ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার বেলমা এলাকায় করমোপ কোম্পানি লিমিটেডে কর্মরত এক নারী শ্রমিককে মারধর, অশ্রাব্য গালিগালাজ ও চাকরিচ্যুতির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানের কোরিয়ান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মি. হোং (৫৫)-এর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী নওশিন আক্তার যুথি (১৯) ঘটনাটি ঘটার কয়েক দিন পর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনা প্রকাশের পর স্থানীয় শ্রমিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শ্রম আইনের লঙ্ঘন, বিদেশি নাগরিকের হাতে নারী শ্রমিক নির্যাতন এবং কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
লিখিত অভিযোগে নওশিন আক্তার যুথি জানান, তিনি প্রায় পাঁচ বছর ধরে করমোপ কোম্পানি লিমিটেডে কিউসি (কোয়ালিটি কন্ট্রোল) পদে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ২ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিয়মিত কাজের সময় কোম্পানির এমডি মি. হোং হঠাৎ তার কাজ পরিদর্শনে আসেন। এসময় তিনি অন্য এক শ্রমিকের কাজের ত্রুটির দায় অযথা তার ওপর চাপিয়ে দিয়ে উচ্চস্বরে চিৎকার-চেচামেচি শুরু করেন।
কোনো কারণ ছাড়াই মানবিক সম্মানহানি করে তিরস্কারের এক পর্যায়ে এমডি একই অফিসের আরেক শ্রমিক মো. এরশাদ আলী দেওয়ানকেও গালিগালাজ করেন এবং অফিসের ফাইলপত্র ছুড়ে মারেন।
নওশিন অভিযোগে উল্লেখ করেন—এমডির আচরণ ধীরে ধীরে উগ্র ও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। হঠাৎ করে তিনি দেড় লিটার পানিভর্তি একটি বোতল প্রচণ্ড জোরে তার দিকে ছুড়ে মারেন। বোতলটি নওশিনের শরীরের ওপর আঘাত হানলে তিনি তীব্র ব্যথা অনুভব করেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। উপস্থিত অন্যান্য শ্রমিকরা দ্রুত দৌড়ে এসে তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাস্থল ত্যাগের আগে এমডি হোং তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দেন। এতে ভুক্তভোগী চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটান।
নওশিন জানান, ঘটনার পরপরই তিনি ও অন্যান্য শ্রমিকরা বিষয়টি ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। তবে কোম্পানি প্রশাসন কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া বা নির্যাতনের শিকার শ্রমিককে সান্ত্বনা দেওয়ার পরিবর্তে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
এতে হতাশ হয়ে এবং পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকদের বক্তব্য গ্রহণ করা হচ্ছে।
এ ঘটনার পর আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি—বিদেশি কোনো কর্মকর্তা বা মালিক দেশের শ্রম আইন লঙ্ঘন করে একজন নারী শ্রমিককে মারধর ও অপমান করার অধিকার রাখেন না। দ্রুত তদন্ত করে দোষীর শাস্তি নিশ্চিত না হলে শ্রমিকরা আরও বড় ধরনের আন্দোলনে নামতে পারেন।