সরিষাবাড়ীতে তিন মানবিক সংগঠনের সহযোগিতায় মনোহর আলীর হাতে নতুন ভ্যান উপহার
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি:
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে তিন মানবিক সংগঠনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হতদরিদ্র মনোহর আলীর হাতে নতুন ভ্যান উপহার দেওয়া হয়েছে। ভ্যান চুরি হওয়ার কারণে আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে বাধ্য হয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামা মনোহর এবার পুনরায় কর্মজীবনে ফিরতে পারছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের দোলভিটী গ্রামের বাসিন্দা মনোহর আলী (৩৮) স্ত্রী, দুই সন্তান পরিবারে একমাত্র উপার্জনকারী। জীবিকার জন্য তিনি এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি ভ্যান ক্রয় করেছিলেন। কয়েক মাস আগে সেই ভ্যানটি চুরি হয়ে গেলে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েন এবং পারিবারিক খরচ চালাতে বাধ্য হয়ে ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করেন।
মনোহরের এ মানবিক বিপর্যয়ের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন সরিষাবাড়ী রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালবেলা প্রতিনিধি ইসমাইল হোসেন এবং দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার প্রতিনিধি ও সরিষাবাড়ী প্রেস ক্লাব ও সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন ভূঁইয়া। পোস্টটি ভাইরাল হলে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নব উত্থান ফাউন্ডেশন (দোলভিটী)-এর সদস্য নূরনবী, আরিফ, কবির, ফারুক, জুয়েল, শ্রাবণ, জয় ও কিশোরদের।
পরে নব উত্থান ফাউন্ডেশন, সরিষাবাড়ী মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন ও প্রিয় সরিষাবাড়ী ফেসবুক গ্রুপ যৌথভাবে মাঠ পর্যায়ে তহবিল সংগ্রহ করে নতুন ভ্যান ক্রয় করে।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে দোলভিটি কৃষ্ণচূড়া মোড় এলাকায় আয়োজন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ভ্যানটি হস্তান্তর করা হয়। এ সময় স্থানীয় শিক্ষক, সমাজকর্মী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন ভ্যান পেয়ে আবেগাপ্লুত মনোহর আলী বলেন,
“চুরি হওয়ার পর আমি একেবারে ভেঙে পড়েছিলাম। পরিবার চালাতে ভিক্ষা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। আজ আবার নিজের কাজ শুরু করতে পারবো—এই সহায়তা আমার নতুন জীবন।”
এ ধরনের মানবিক কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রবিউল ইসলাম বলেন,
“ভ্যানটি পেয়ে মনোহর আবার স্বাবলম্বী হতে পারবেন। সমাজের সামর্থ্যবান সবাই এগিয়ে এলে এমন অসহায় মানুষ কর্মক্ষম হয়ে দাঁড়াতে পারবেন। সংগঠনগুলোর এই উদ্যোগ অনুসরণযোগ্য।”
সংগঠনের নেতারা জানান, ভ্যান চালনার মাধ্যমে যাতে মনোহর আলী পুনরায় আর্থিক সংকটে না পড়েন এজন্যই আমাদের এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হলো।